নিজস্ব প্রতিবেদক | পাবনা
পাবনার বেড়া উপজেলায় অটোরিকশাচালক ফজলুল হক (৪৫) হত্যাকাণ্ডের ১০ দিনের মাথায় রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়া প্রেম এবং পারিবারিক কলহের জেরে নিজ স্ত্রী, তাঁর সাবেক স্বামী ও এক সহযোগীর পরিকল্পনায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
১. জোছনা খাতুন: নিহত ফজলুল হকের বর্তমান স্ত্রী। ২. মানিক হোসেন (৪৭): জোছনা খাতুনের সাবেক স্বামী এবং হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। ৩. খোকন প্রামাণিক (৪২): মানিকের বন্ধু ও হত্যাকাণ্ডের সহযোগী।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ‘প্রেম ও প্রতিহিংসা’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান জানান, প্রায় ২০ বছর আগে ফজলুল হকের সঙ্গে জোছনা খাতুনের বিয়ে হয় এবং তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। তবে মাঝে জোছনা লটারির টিকিট বিক্রি করার সময় মানিক হোসেনের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ফজলুলকে তালাক দিয়ে মানিককে বিয়ে করেন জোছনা।
কিছুদিন পর সন্তানদের কথা ভেবে জোছনা পুনরায় ফজলুলের কাছে ফিরে আসেন এবং মানিককে তালাক দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মানিক ফজলুলকে হত্যার হুমকি দিতে থাকেন। এদিকে ফজলুলের কাছে ফিরলেও জোছনা গোপনে মানিকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ সৃষ্টি হলে জোছনা ক্ষুব্ধ হয়ে মানিক ও খোকনের সঙ্গে মিলে ফজলুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
যেভাবে সংঘটিত হয় হত্যাকাণ্ড
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মার্চ রাত ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে নির্জন বড় বশিলা মাঠের একটি ধানের জমিতে ফজলুলকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে স্ত্রী জোছনা ও খোকনের সহায়তায় মানিক দা দিয়ে ফজলুলের গলা কেটে হত্যা করেন। পরদিন ২০ মার্চ সকালে পুলিশ সেখান থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। ওই দিনই নিহতের ছেলে স্বপন বাদী হয়ে বেড়া থানায় মামলা করেন।
পুলিশের অভিযান ও স্বীকারোক্তি
আজ সোমবার ভোরে পাবনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। বিকেলে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
একনজরে ঘটনা:
-
নিহত: ফজলুল হক (অটোরিকশাচালক)
-
স্থান: বড় বশিলা মাঠ, বেড়া, পাবনা।
-
কারণ: পরকীয়া ও পারিবারিক বিবাদ।
-
বর্তমান অবস্থা: আসামিরা জেলহাজতে।