রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আকস্মিক ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্র থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার সম্ভাবনা আরও কমে গেছে ইউক্রেনের। শুক্রবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে, এই ঘটনা কিয়েভের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্রেমলিনের শীর্ষ উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পুতিন নিজেই ট্রাম্পকে ফোন করে ইউক্রেনকে টমাহক সরবরাহ না করার অনুরোধ জানান। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে এই অস্ত্র পাওয়ার চেষ্টা করছে, যা পেলে তারা সর্বাধিক দূরপাল্লার আক্রমণ সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে এবং সরাসরি মস্কোতে হামলা চালাতে সক্ষম হবে।
ট্রাম্প ফোনালাপের পর জানিয়েছেন,
“আমেরিকার জন্যও টমাহক দরকার। আমাদের কাছে অনেক আছে, কিন্তু সেগুলো দেশের জন্য প্রয়োজন।”
ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে এটি দুই নেতার অষ্টম ফোনালাপ। অতীতে দেখা গেছে, পুতিনের ফোনের পর ট্রাম্প প্রায়ই অবস্থান নরম করতেন।
বুদাপেস্ট সম্মেলনের প্রস্তুতি
-
শুক্রবার জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে এই ফোনালাপের বিষয় আলোচনা হবে।
-
পুতিনের সঙ্গে হাঙ্গেরিতে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; সময় এখনো নির্ধারিত হয়নি।
-
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া শান্তি সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে।
পুতিনের যাত্রার জটিলতা
-
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা, আকাশপথে বিধিনিষেধ এবং আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়া তাঁর যাত্রাকে জটিল করছে।
-
হাঙ্গেরি আইসিসির স্বাক্ষরকারী দেশ হওয়ায় আইনগতভাবে তাঁকে গ্রেপ্তার করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তবে অরবান বলেছেন তা হবে না।
বিশেষ মন্তব্য
-
সাবেক ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে জন ফোরম্যান: “জেলেনস্কি হয়তো হতাশ। বুদাপেস্ট সম্মেলনের কারণে বৈঠকটি মলিন হয়ে গেল।”
-
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা: টমাহক নিয়ে আলোচনা পুতিনকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে ফিরিয়ে এনেছে; শক্ত অবস্থানই শান্তির গতি তৈরি করতে পারে।
-
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স: এখনো রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কোনো সমঝোতার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, দুই পক্ষের প্রত্যাশার মধ্যে বড় অমিল রয়েছে।
📍 উল্লেখ্য, জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন এবং হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে দেখা করেছেন। পুতিনের পক্ষ থেকে এখনও যুদ্ধ থামানোর কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।