নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা তারিখ: ১৬ মার্চ, ২০২৬
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে—ইরানি মায়েরা তাঁদের সৈনিক সন্তানদের নবীর সুন্নাহ মেনে খেজুর খাইয়ে ও দোয়া করে যুদ্ধের ময়দানে বিদায় দিচ্ছেন। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভিডিওটি নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবির সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
ভাইরাল দাবি ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ নামক একটি ফেসবুক পেজসহ অসংখ্য আইডি ও ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে। ২১ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে হাজার হাজার রিয়্যাকশন ও কমেন্ট জমা পড়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারীরা একে ধর্মীয় আবেগ ও বীরত্বের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ একে সিরিয়ার ঘটনা বলেও মন্তব্য করেছেন।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য
আজকের পত্রিকার ফ্যাক্ট-চেক টিমের অনুসন্ধানে ভিডিওটির প্রকৃত উৎস ও প্রেক্ষাপট বেরিয়ে এসেছে:
-
উৎসের সন্ধান: ভিডিওটির ওপরে ‘Syri Net’ (سوريا نت) নামক একটি লোগো দেখা যায়, যা সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রচার করে। এই লোগোর সূত্র ধরে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ওই প্রতিষ্ঠানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে মূল ভিডিওটি পাওয়া যায়।
-
প্রকৃত ঘটনা: অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি ইরানের নয়, বরং সিরিয়ার কামিশলি (Qamishli) এলাকার। সিরিয়ার সরকারি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী কামিশলিতে পৌঁছালে স্থানীয় এক নারী আনন্দ প্রকাশ করতে করতে মিষ্টি বিতরণ করছিলেন।
-
প্রেক্ষাপট: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিট ও অন্যান্য বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কামিশলি এলাকাটি আগে কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠী এসডিএফ/ওয়াইপিজির নিয়ন্ত্রণে ছিল। সিরীয় সরকারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে এলাকাটি পুনরায় সরকারি নিয়ন্ত্রণে আসায় স্থানীয় বাসিন্দারা উল্লাস প্রকাশ করেন। ওই নারী মূলত সেই খুশিতেই সেনাসদস্যদের মিষ্টি মুখ করাচ্ছিলেন।
সিদ্ধান্ত
“ইরানি মায়েরা সৈনিক সন্তানদের খেজুর খাইয়ে বিদায় দিচ্ছেন”—এই দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর। এটি গত ফেব্রুয়ারি মাসে সিরিয়ার কামিশলিতে সরকারি বাহিনী প্রবেশের পর এক নারীর আনন্দ প্রকাশের চিত্র। এর সঙ্গে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির বা সন্তানদের যুদ্ধে বিদায় দেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।