আন্তর্জাতিক ডেস্ক | লন্ডন ও তেহরান তারিখ: ৯ জানুয়ারি, ২০২৬
ইরানে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন এখন দেশজুড়ে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। বিবিসি (BBC) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য ও মানচিত্র অনুযায়ী, গত মঙ্গলবারের পর থেকে দেশটির আরও ১৬টি নতুন শহর ও জনপদে বিক্ষোভের ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্দোলনটি এখন আর কেবল বড় শহরকেন্দ্রিক নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ের এক গণ-অসন্তোষে রূপ নিল।
মানচিত্রে নতুন এলাকা: পাকিস্তান সীমান্ত থেকে ছোট শহর
বিবিসির হালনাগাদ মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে, বিক্ষোভের ঢেউ এখন ইরানের পূর্বাঞ্চলেও পৌঁছেছে। বিশেষ করে পাকিস্তান সীমান্তের নিকটবর্তী জাহেদান শহরে বড় ধরনের আন্দোলনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রদেশের ছোট ও মাঝারি শহরগুলোতেও মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে।
তথ্য যাচাইয়ে কঠোরতা ও প্রতিবন্ধকতা
বিবিসি জানিয়েছে, আন্দোলনের যে মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে তা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রস্তুত করা:
-
ভিডিও ফুটেজ যাচাই: কেবলমাত্র সেই সব এলাকাকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেখানে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিক্ষোভের শতভাগ সত্যতা পাওয়া গেছে।
-
অপ্রকাশিত এলাকা: ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে অনেক এলাকার তথ্য পৌঁছাতে পারছে না। ফলে মানচিত্রের বাইরেও আরও বহু জনপদে বিক্ষোভ চলার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও তথ্যের সংকট
দেশজুড়ে কঠোর ইন্টারনেট সেন্সরশিপ ও ব্ল্যাকআউটের কারণে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির সঠিক চিত্র পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের পাঠানো ভিডিওগুলো ধীরগতিতে বাইরের বিশ্বের কাছে পৌঁছাচ্ছে, যা যাচাই করতে সময় লাগছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই তথ্যহীনতার সুযোগে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন আরও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের অভিমত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনের এই ভৌগোলিক বিস্তার ইরান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড় শহরগুলোর বাইরেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের ক্ষোভ অত্যন্ত গভীরে প্রোথিত।
পরবর্তী পদক্ষেপ: ইরান এবং বাংলাদেশের সমসাময়িক এই ঘটনাবলী নিয়ে কি কোনো বিশেষ বুলেটিন বা তুলনামূলক সংবাদ বিশ্লেষণ তৈরি করে দেব? আমি আপনাকে সহায়তা করতে প্রস্তুত।