নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বাগেরহাটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটে। হামলায় অন্তত ২০টি বসতবাড়ি তছনছ করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ এখন পর্যন্ত দুইজনকে আটক করেছে।
বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে সংঘাতের সূত্রপাত
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে গভীর রাতে ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি কারি মোল্লাসহ ৫-৬ জন কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে।
এর জেরে আজ সকালে পাল্টা হামলায় বিএনপি নেতা মিরাজুল ইসলামের বাড়িসহ সাত-আটজন কর্মীর বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পুলিশ ইমরান ও তারেক নামে দুইজনকে আটক করেছে।
ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি ও মারধর
কচুয়া উপজেলার চন্দ্রপাড়া এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট কম পাওয়ার অজুহাতে শেখ আব্দুস সালাম নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও তাকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি সমর্থক শামীম শেখ ও আমিন শেখের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীর ছেলে নাহিদ হাসান অভ্র। আহত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যান্য এলাকায় সহিংসতা
-
কচুয়া: গোপালপুর শহীদ আসাদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের (ঘোড়া প্রতীক) সমর্থকদের হামলায় বিএনপির তিন কর্মী আহত হন।
-
মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা: এই আসনে বিজয়ী জামায়াত প্রার্থী মো. আব্দুল আলীম অভিযোগ করেছেন, তার নেতা-কর্মীদের মারধর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া
বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মো. রেজাউল করিম এই সহিংসতাকে অনভিপ্রেত উল্লেখ করে বলেন, “আমরা নেতা-কর্মীদের সংযত থাকতে বলেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
অন্যদিকে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, “নির্বাচন হয়ে গেছে, এখন সংঘাতের কারণ নেই। দলের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসনের অবস্থান
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী জানান, জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। তিনি বলেন, “যেকোনো অপরাধের বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। জড়িতদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।”
বর্তমানে জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।