ঢাকা, শনিবার: আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে বামপন্থী, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক ধারার নয়টি দল নতুন রাজনৈতিক জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। জোটটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও বিভিন্ন গণদাবির আন্দোলনে একসঙ্গে ভূমিকা রাখবে বলে নেতারা জানিয়েছেন।
আজ সকাল থেকে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদের যৌথ জাতীয় কনভেনশন থেকে এই ঘোষণা আসে। বেলা ১১টায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়। কনভেনশনে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার দেড় হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন।
জোটে যুক্ত ৯টি দল
-
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)
-
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)
-
গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি
-
বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ
-
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন
-
বাসদ (মার্ক্সবাদী)
-
বাংলাদেশ জাসদ
-
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ–মাহবুব)
-
সোনার বাংলা পার্টি
এ ছাড়া — ঐক্য ন্যাপ, গণমুক্তি ইউনিয়ন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন ও নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চা শিগগিরই যুক্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
ঘোষণাপত্র ও লক্ষ্য
কনভেনশনের খসড়া ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফী রতন। তিনি বলেন—
“দেশে সুখ–শান্তি ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রগতিমুখী গণতান্ত্রিক ধারার সরকার প্রতিষ্ঠা জরুরি। জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে যুক্তফ্রন্ট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি জানান, অংশগ্রহণকারী দল ও প্রগতিশীল ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি পরিচালনা কমিটি জোট পরিচালনা করবে।
বক্তাদের বক্তব্য
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন—
“আজকের যুক্তফ্রন্ট হবে সমাজ বিপ্লবের যুক্তফ্রন্ট। এই উদ্যোগের ওপরই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।”
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন—
“জনগণ পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তনের শক্তি হতে পারে বামপন্থীরা। যুক্তফ্রন্টে সমাজের ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে থাকা মানুষদের যুক্ত করতে হবে।”
সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন—
“রাজনীতিতে নানা বার্গেনিং চলছে। কঠিন সময়ে বরফ ভেঙে সামনে এগোতে পারলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব।”
বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন—
“আজ থেকে বাম দলগুলোর পরিচয় একটাই—আমরা সবাই গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের মানুষ।”
বাম জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন—
“চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশের ওপর ষড়যন্ত্র চলছে। জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক উত্থান এখন জরুরি।”
সারসংক্ষেপ
নতুন জোট “গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট” মূলত একটি বিকল্প গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। বাম ও প্রগতিশীল ধারার দলগুলো মনে করছে, এই জোট দেশের রাজনীতিতে নতুন জনমুখী ধারা ও গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবে।