২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিশ্বনাথ পৌরসভায় ‘অভিশপ্ত’ জীবন: সড়কের ওপর বাঁশের সাঁকোই ৪শ মানুষের ভরসা

admin
প্রকাশিত ২২ এপ্রিল, বুধবার, ২০২৬ ২১:৪৮:৫৭
বিশ্বনাথ পৌরসভায় ‘অভিশপ্ত’ জীবন: সড়কের ওপর বাঁশের সাঁকোই ৪শ মানুষের ভরসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিশ্বনাথ: তথ্য-প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে যেখানে দেশ ডিজিটাল হওয়ার কথা, সেখানে সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের ‘ইকবালপুর (একাংশ)’ গ্রামের চিত্র যেন কোনো এক মধ্যযুগীয় রূপকথাকে হার মানায়। পৌরসভার মানচিত্রে ঠাঁই পেলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এই গ্রামে। দীর্ঘ ২শ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই এখন গ্রামের ৪০টি পরিবারের প্রায় ৪ শতাধিক মানুষের একমাত্র অবলম্বন।

দুর্ভোগের চিত্র

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে গ্রামের প্রধান সড়কটি কর্দমাক্ত ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের পাশে থাকা গভীর খালের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। খালের পাড়ে কোনো গার্ডওয়াল না থাকায় এবং সড়কটি কাঁচা হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে এখানে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে সড়কের ওপরই নির্মাণ করেছেন প্রায় ২০০ ফুট লম্বা একটি বাঁশের সাঁকো।

ঝুঁকি ও আতঙ্ক

এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী কোমলমতি শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধ এবং গর্ভবতী নারীরা। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এখন এই গ্রামের মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাঁকোটি পিচ্ছিল থাকায় যেকোনো সময় গভীর খালে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।

গ্রামবাসীর ক্ষোভ

স্থানীয় বাসিন্দা তোফায়েল আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পৌরসভার ভেতরে থেকেও আমরা উন্নয়ন বঞ্চিত। নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা বড় বড় আশ্বাস দিলেও পরে কেউ আর খোঁজ নেন না। আমাদের জীবনে এই সাঁকোটি এখন অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।” অভিভাবক আমির আলী জানান, সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে তারা চরম আতঙ্কে থাকেন। কখন কে পা পিছলে খালে পড়ে যায়, সেই দুশ্চিন্তায় কাটে সারা দিন। গ্রামবাসী অবিলম্বে খালের পাশে গার্ডওয়াল নির্মাণসহ সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এ বিষয়ে বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান জানান, বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। তিনি বলেন, “এলাকাবাসী লিখিত আবেদন করলে আমরা ইঞ্জিনিয়ার পাঠিয়ে মেজারমেন্ট নেব। পৌরসভার সাধ্যের মধ্যে থাকলে আগামী অর্থ বছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

অন্যদিকে, বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক উম্মে কুলসুম রুবি বিষয়টিকে অত্যন্ত মানবিক উল্লেখ করে বলেন, “পৌর প্রশাসকের সাথে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে আগামী অর্থ বছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”