বেপরোয়া ‘নেহার-মালা’চোর সিন্ডিকেট
রেলস্টেশন থেকে পাড়া-মহল্লায় আতঙ্ক
সিলেট নগরীতে শীর্ষ নারী ছিনতাইকারী নেহার ও মালা সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় এমন অভিযোগ একাধিক ভুক্তভোগীর। নগরীতে নারী ছিনতাইকারী ও পকেট চোর সিন্ডিকেটের অন্যতম তিনজন হচ্ছে মালা, মেঘলা ও তাদের মা নেহার বেগম। নগরীর জিন্দাবাজার, সোবানিঘাট, বন্দরবাজার, রিকাবীবাজার, আম্বরখানাসহ অধিকাংশ এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে তারা নারী পকেট চোর ও ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত মুখ। বর্তমানে দুই বোন ও মা এক সাথে চুরি করলেও ঈদ কিংবা পূজা এলেই তাদের নেতৃত্বে একাধিক সংঘবদ্ধ নারী ছিনতাইদল নিয়ে নামে বিভিন্ন মার্কেটে। চুরি করতে গিয়ে তারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ধরাও পড়ে।
সুত্র জানায়, নেহার ও মালা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সিলেটের বিভিন্ন থানায় প্রায় শতাধিক মামলা রয়েছে।ভুক্তভোগীরা বলছেন,মালা,নেহার মা ও মেয়ে সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা সবাই দেখতে সুন্দরী। এদের পোশাকেও থাকে আভিজাত্যের ছাপ। এই সুযোগকে পুঁজি করে মালা সিন্ডিকেট দাপিয়ে পকেট চুরি ও ছিনতাই করে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ কথা বলতে পারেনা, এমনকি গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ করতে পারে না।তাদের সহযোগীরা সাধারণত মার্কেট, হাসপাতাল, মাজারে একাকী চলাফেরা করা নারীদের টার্গেট করে তারা। এরপর অনুসরণ করতে থাকে।সুবিধামতো জায়গায় আসার পরে মুহূর্তেই কৃত্রিম জটলা তৈরি করে চোখের পলকে ছিনিয়ে নেয় সর্বস্ব।
সূত্র আরো বলছে, মালা নেহার বাহিনীতে ১০ থেকে ১৫ জন নারী পুরুষ ছড়িয়ে রয়েছে সিলেটে। যাদের মূল কাজ ছিনতাই। অস্ত্র ছাড়াই ভিন্ন কৌশলে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয় তারা। এ সময় তাদের আশপাশেও ছড়িয়ে থাকে সশস্ত্র সহযোগীরা।এমনকি তাদের সহযোগিতা করার জন্য নির্দিষ্ট সিএনজি অটোরিকশা ও চালক রয়েছে। নগরীর শীর্ষ পুরুষ ছিনতাইকারীদের সাথে তাদের যোগসাজশ রয়েছে।আছমা আক্তার মালা ও মেঘলা আক্তার তারা আপন দুই বোন তাদের মা নেহার বেগম এরা নগরীর চিহিৃত নারী পকেট চুর ও ছিনতাইকারী চক্রের মুল হোতা । বাড়ি দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারের কলারতল এলাকার আব্দুল মালেকের মেয়ে। তাদের চলাফেরা বসবাস শহরতলীতে। বোরকা লাগিয়ে নগরজুড়ে ঘুরে বেড়ায় তারা। তাদের প্রধান সহযোগী হিসেবে রয়েছেন তাদের মা, নেহার বেগম তারা সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালসহ বিভিন্ন মার্কেটে মার্কেটে দেয় ঢুঁ। আর সুযোগ পেলেই ছিনিয়ে নেয় মোবাইল কিংবা ভ্যানিটি ব্যাগ। এই সিন্ডিকেটকে শাহজালাল রহঃ মাজার ও জিন্দাবাজার এলাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েক বার জনতা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।কিন্তুপুলিশ প্রসিকিউশনের মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করলেও বেশিদিন কারাবাস করতে হয়নি। জামিনে বেরিয়ে এসে আবার চুরির ধান্ধায়। প্রতিনিয়ত তাদের খপ্পরে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে নারী প্রতারক চক্রের প্রতারণার বিভিন্ন কৌশল। কোথায় কিভাবে তারা চুরি-ছিনতাই করে এমন গোপন কিছু তথ্য।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, নারী ছিনতাইকারী চক্রটি চুরি করতে গিয়ে কয়েকটি কৌশল অবলম্বন করে থাকে। তারা নগরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী সেজে যায়। সেখানে ‘টার্গেট’ ঠিক করে সেই টার্গেটের সাথে একই লাইনে দাঁড়ায়,অথবা একি জায়গায় বসে, তারপর সুকৌশলে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ব্যাগ থেকে মোবাইল, টাকা ও মূল্যবান জিনিস নিয়ে দ্রুত সহযোগীর কাছে পাচার করে দেয়।ঘনিষ্ঠ একটি সুত্র জানায়, একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে মালার গোপন সম্পর্ক রয়েছে। যার ফলে আগে ছিনতাইয়ের কারনে ধরা পড়লেও বর্তমানে আটক হতে হয় না।
সিলেটের রেলওয়ে স্টেশন, শপিং মল এবং জনবহুল এলাকাগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পেশাদার নারী চোর চক্রের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ‘মালা’ ও ‘নেহার’ নামক দুই নারীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ যাত্রীদের মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটে নিচ্ছে। সম্প্রতি সিলেট রেলওয়ে থানায় দায়ের করা একটি এজাহার এবং মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম তেলিপাড়া এলাকাবাসীর গণ-অভিযোগ থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।গত ১৭ আগস্ট সকালে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে ‘পাহাড়িকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে ওঠার সময় কুলাউড়ার বাসিন্দা মোঃ আব্দুল কালামের স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন ঝর্না এই চক্রের শিকারে পরিণত হন। ট্রেনের বগিতে ওঠার সময় কৃত্রিম জটলা সৃষ্টি করে ধাক্কাধাক্কির ছলে চোর চক্রটি তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি ক্রিমের কৌটা চুরি করে। ভুক্তভোগী জানান, ওই কৌটার ভেতরেই ছিল তাদের পারিবারিক প্রায় ২১ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার এবং একটি ডায়মন্ডের আংটি, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।পরবর্তীতে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পেশাদার চোর মালা, মা নেহার বেগম ও সুমির নেতৃত্বে একটি দল এই ঘটনা ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে স্টেশন ত্যাগ করছে।এদিকে, এই চোর চক্রের মূল হোতা আছমা আক্তার মালা ও তার সহযোগীরা মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম তেলিপাড়া এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বৈধ আয়ের কোনো উৎস না থাকলেও চুরি ও ছিনতাইয়ের টাকায় তারা এই অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে।সম্প্রতি এলাকাবাসী তাদের অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করলে চক্রটি উল্টো পুলিশ ও প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। এমনকি গত ২৩ আগস্ট এই চক্রের সদস্য আমজাদ আলী খান সাগর সেনাবাহিনীর কাছে এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিলেও তদন্তে তা ভুয়া প্রমাণিত হয়। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা এলাকাবাসী ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।তদন্তে দেখা গেছে, এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে এসএমপি কোতোয়ালী, দক্ষিণ সুরমা এবং এয়ারপোর্ট থানায় হত্যা, দ্রুত বিচার আইন, এবং চুরিসহ ডজনেরও বেশি মামলা চলমান রয়েছে। চক্রের প্রধান সদস্যদের মধ্যে রয়েছে, নেহার বেগম আছমা আক্তার মালা মেঘলা ও সুমি,। সিলেট রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, ভুক্তভোগীর এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
অন্যদিকে, মোগলাবাজার থানা ও এসএমপি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই চিহ্নিত অপরাধী চক্রটিকে গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় এনে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।