নিজস্ব প্রতিবেদক | ব্রাহ্মণবাড়িয়া বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দ্বীন ইসলাম (২৮) নামের এক সাহসী ও তরুণ সাংবাদিককে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে কসবা উপজেলার শিমরাইল গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত দ্বীন ইসলাম স্থানীয়ভাবে মাদক ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার একজন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ ও প্রেক্ষাপট
নিহত দ্বীন ইসলাম শিমরাইল গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামক একটি অনলাইন নিউজ পেজ পরিচালনা করতেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে মাদক ও বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও সামাজিক অবস্থান নেওয়ায় তিনি অপরাধী চক্রের টার্গেটে ছিলেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি কুমিল্লা শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করলেও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে গ্রামে এসেছিলেন। সেখানেই তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।
বিসিপিসি’র (B.C.P.C) তীব্র প্রতিবাদ
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C) কেন্দ্রীয় কমিটি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গভীর শোক ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে।
-
সভাপতি খান সেলিম রহমান বলেন: “তরুণ সাংবাদিক দ্বীন ইসলামকে হত্যা করা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের ওপর সরাসরি আঘাত। মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে সরানো হয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব।”
-
সাধারণ সম্পাদক লায়ন মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার বলেন: “দ্বীন ইসলামের মৃত্যু প্রমাণ করে সত্যের পক্ষে কথা বলা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনলে গণমাধ্যমে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে।”
সাংবাদিক সমাজে শোকের ছায়া
বিসিপিসি নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন, দ্বীন ইসলামের পূর্ব শত্রুতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করলেই এই হত্যার প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁরা অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।