নিজস্ব প্রতিবেদক | দিরাই-শাল্লা
ভাটি বাংলার উত্তাল ঢেউ আর হাওরের বিশালতায় মিশে থাকা এক রাজনীতিকের নাম নাছির চৌধুরী। বর্তমানে প্রচারসর্বস্ব রাজনীতির যুগেও যিনি নিজেকে রেখেছেন প্রচারবিমুখ, কিন্তু গণমানুষের হৃদয়ে গেঁথে নিয়েছেন নিজের স্থান। কবি ও সিনিয়র সাংবাদিক সুনির্মল সেনের এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে নাছির চৌধুরীর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং হাওর অঞ্চলের রাজনীতিতে তার অপরিহার্যতার কথা।
ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় অঙ্গন
নাছির চৌধুরীর রাজনীতির পাঠ শুরু হয়েছিল ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে। তৎকালীন সময়ে ঐতিহ্যবাহী সিলেট এমসি কলেজ এবং মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হয়ে তিনি তার নেতৃত্বের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছিলেন। সেই কচ্ছপগতির অবিচল পদযাত্রা তাকে পৌঁছে দিয়েছে দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের চেয়ারে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে পরাজিত করে ইতিহাস সৃষ্টি
জাতীয় রাজনীতিতে নাছির চৌধুরীর আগমন ছিল এক অভাবনীয় চমক। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের অন্যতম সংবিধান প্রণেতা ও বর্ষীয়ান নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে পরাজিত করে তিনি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। এই জয়ের মধ্য দিয়েই তিনি প্রমাণ করেছিলেন, জনগণের অকুণ্ঠ ভালোবাসা থাকলে যেকোনো পাহাড়সম বাধাও জয় করা সম্ভব।
জনমানুষের ভরসার স্থল
দিরাই-শাল্লা ও আজমিরীগঞ্জসহ পুরো হাওর অঞ্চলের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটে নাছির চৌধুরী সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। স্থানীয়দের মতে:
“নাছির চৌধুরী যখন হাঁটতেন, তার পেছনে থাকতো শত শত মানুষ। গরিব-দুঃখী ও মেহনতী মানুষের কাছে তিনি ছিলেন এক বিশ্বস্ত আশ্রয়ের নাম।”
অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তা
বর্তমান সময়ের অনেক পরিচিত রাজনৈতিক মুখ থাকলেও, নাছির চৌধুরীর দীর্ঘদিনের ত্যাগ আর অর্জনের ধারেকাছে পৌঁছানো অন্যদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। হাওর অঞ্চলের রাজনীতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছির চৌধুরী এখন আর কেবল একটি নাম নন, বরং একটি ‘ব্র্যান্ড’ ও সাধারণ মানুষের প্রতিচ্ছবি।
শেষ কথা
বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও সম্প্রতি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে তিনি প্রমাণ করেছেন, দিরাই-শাল্লার মানুষের প্রতিদান দিতে ভুল করেনি। দল হিসেবে বিএনপিও তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসকে যথাযথ সম্মান দিয়েছে। সুনির্মল সেনের ভাষায়, “হাওর অঞ্চলের রাজনীতিতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, নাছির চৌধুরী কিংবা ফজলুর রহমানদের বিকল্প তৈরি হওয়া প্রায় অসম্ভব।”
ভাটি বাংলার এই জীবন্ত ইতিহাসের সমাপ্তি টানা তার জীবদ্দশায় সম্ভব নয়—এমনটাই বিশ্বাস করেন দিরাই-শাল্লাবাসী।