যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ান্দা ডেঞ্চ ও জামাল হিন্টনের বন্ধুত্বের গল্প থ্যাংকস গিভিং উপলক্ষে ব্যাপকভাবে আলোচিত। ২০১৬ সালে ওয়ান্দা ভুল করে একটি টেক্সট বার্তা পাঠান, যা পৌঁছায় তখনকার ১৭ বছর বয়সী হাইস্কুল শিক্ষার্থী জামাল হিন্টনের কাছে। বার্তার মাধ্যমে জামাল জানতে পারেন এটি ভুলবার্তা, কিন্তু রসিকতা হিসেবে তিনি লিখেন, “আমি কি থ্যাংকস গিভিং প্লেট পাব?”
ওয়ান্দার জবাবে আসে, “দাদিরা তো সব সময় খাবারের জন্য দরজা খুলেই রাখেন।” এভাবে শুরু হয় অচেনা দুজনের গল্প, যা দ্রুতই ভাইরাল হয়ে ওঠে। জামাল সত্যিই সেই বছরের থ্যাংকস গিভিং ডিনারে ওয়ান্দার পরিবারের সঙ্গে যোগ দেন।
সেই বন্ধুত্বের মধ্য দিয়ে ২০১৬ সালের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে মানবিক আলো ফুটে ওঠে। এরপর থেকে প্রতি বছরই তারা একসঙ্গে থ্যাংকস গিভিং উদ্যাপন করেছেন। ২০২৩ সালে স্তন ক্যানসারের কারণে ওয়ান্দা শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে না পারলেও জামাল ভিডিও কলের মাধ্যমে তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ওয়ান্দার প্রয়াত স্বামী লনি ডেঞ্চ ২০২০ সালে কোভিড-১৯ জটিলতায় মারা যান। প্রথম থ্যাংকস গিভিংয়ে তার স্মৃতির জন্য টেবিলে জ্বলন্ত মোমবাতি রাখা হয়। এই ঘটনার পর থেকে তাঁদের দাদি-নাতির সম্পর্ক আরও গভীর হয়।
বর্তমানে ২৬ বছর বয়সী জামাল হিন্টন একজন ব্যবসায়ী, সেলস ডিরেক্টর ও যুব বাস্কেটবল কোচ। চলতি বছরের থ্যাংকস গিভিং আয়োজন হচ্ছে জামালের খালার বাড়িতে, যেখানে ওয়ান্দাও উপস্থিত হবেন। এই বন্ধুত্বের গল্পের কারণে তারা এখন মিডিয়ার আলোচনায় এবং এই বছর তাঁদের পার্টি স্পনসর করছে ‘গ্রিন জায়ান্ট’।
ওয়ান্দা বলেন, “এই গল্পটি সবাই ভুলে গেলেও আমরা প্রতি বছরই একসঙ্গে থ্যাংকস গিভিং উদ্যাপন করব। আমাদের বন্ধুত্ব সত্যিকারের, সাজানো নয়।”