আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৪ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ‘থাড’ (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার সিস্টেম গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইরান। জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে এই নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)-এর এক সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ
গত সোমবার (৩ মার্চ) সংগৃহীত স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে সিএনএন জানিয়েছে, ইরান থেকে প্রায় ৫০০ মাইলেরও বেশি দূরে অবস্থিত এই রাডারটি অত্যন্ত নিখুঁত নিশানায় ধ্বংস করা হয়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সাম্প্রতিক সংঘাতের শুরুর দিকেই এই হামলা চালানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেন এই রাডারটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রাডারটি ছিল থাড ব্যবস্থার মূল ‘চোখ’। এর প্রধান কাজগুলো ছিল:
-
আগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা।
-
ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার জন্য ইন্টারসেপ্টরগুলোকে সঠিক লক্ষ্যবস্তু চিনিয়ে দেওয়া।
-
এই রাডার ছাড়া পুরো থাড ব্যাটারিটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।
হামলার বিস্তার: জর্ডান থেকে আমিরাত
সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের এই হামলার লক্ষ্যবস্তু কেবল জর্ডানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুটি স্থানেও একই ধরনের রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে আমিরাতের সরঞ্জামগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কৌশলগত প্রভাব ও নীরব ওয়াশিংটন
এই ঘটনাকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য একটি বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষণ: এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সংঘাতের মোড় নতুন দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।