নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকটে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সিলেটে লোডশেডিং পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সিলেট মহানগরীতে দিনে বহুবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করলেও গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরও শোচনীয়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ১২ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক বর্তমানে অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
মহানগর ও গ্রামাঞ্চেলের চিত্র
গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সিলেট মহানগরীর ইলেকট্রিক সাপ্লাইসহ বিভিন্ন এলাকায় সারাদিন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিল। প্রতিবার বিদ্যুৎ যাওয়ার পর ফিরে আসতে অন্তত এক ঘণ্টা সময় লাগছে। শুক্রবার ছুটির দিনে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও জনজীবনে স্বস্তি ফেরেনি। তবে উপজেলা পর্যায়ের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ; সেখানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ প্রায় অর্ধেক হওয়ায় দিনরাত অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎহীন থাকছে মানুষ।
চাহিদা ও সরবরাহের বিশাল ঘাটতি
পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে:
-
পিডিবি সিলেট: বৃহস্পতিবার পিক আওয়ারে চাহিদা ছিল ২২৫ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ মিলেছে মাত্র ১৮৫ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৪০ মেগাওয়াট। সিলেট জেলা ও মহানগর মিলিয়ে আড়াই লাখ গ্রাহকের বিপরীতে চাহিদা ১৬০ মেগাওয়াট হলেও লোডশেডিং চলাকালীন সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০০ মেগাওয়াট।
-
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১: ৪ লাখ ২০ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে পিক আওয়ারে চাহিদা ১০৫ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে।
কেন এই সংকট?
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মো. ইমাম হোসেন জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা সবাই জানি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। এর প্রভাবে জ্বালানি সংকটে উৎপাদন কমছে বলে আমরা ধারণা করছি।”
অনিশ্চয়তায় জনজীবন
সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ মিলে পিডিবির মোট গ্রাহক সংখ্যা ৫ লাখ ৬৫ হাজার। সহকারী প্রকৌশলী জারজিসুর রহমানের মতে, লোডশেডিং না থাকলে সর্বোচ্চ ২৩০ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া যেত, যা এখন ১৪০ থেকে ১৮০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।
সহসা এই সংকটের সমাধান হবে কি না—তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই। ফলে তীব্র গরম ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে সিলেটের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাসহ সাধারণ জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।