আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ নিয়ে এক অমানবিক বাণিজ্য শুরু হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই ভয়াবহ তথ্য।
মরদেহ আটকে রেখে অর্থ আদায়: উত্তর ইরানের রাশত শহরের একটি পরিবারের অভিযোগ, তাদের স্বজনের মরদেহ ফেরত পেতে নিরাপত্তা বাহিনী ৭০০ মিলিয়ন তোমান (প্রায় ৫,০০০ ডলার) দাবি করেছে। ওই পরিবারের দাবি, রাশত-এর পুর্সিনা হাসপাতালের মর্গে অন্তত ৭০ জন বিক্ষোভকারীর মরদেহ আটকে রাখা হয়েছে। একই চিত্র তেহরানেও; সেখানে এক কুর্দি নির্মাণ শ্রমিকের পরিবার জানিয়েছে, তাদের ছেলের মরদেহের বিনিময়ে এক বিলিয়ন তোমান (প্রায় ৭,০০০ ডলার) দাবি করা হয়েছে। মাসিক ১০০ ডলারের নিচে আয় করা ওই পরিবারের পক্ষে এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা অসম্ভব হওয়ায় তারা মরদেহ ছাড়াই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
অমানবিক শর্ত ও বিকল্প প্রস্তাব: তেহরানের বেহেশত-ই জোহরা মর্গের কর্মকর্তারা পরিবারগুলোকে এক বিতর্কিত প্রস্তাব দিচ্ছেন। যদি পরিবারগুলো স্বীকার করে যে তাদের সন্তান বিক্ষোভকারী ছিল না, বরং সরকারি ‘বাসিজ’ বাহিনীর সদস্য হিসেবে বিক্ষোভকারীদের হাতে নিহত হয়েছে, তবে বিনা মূল্যে লাশ ছেড়ে দেওয়া হবে। অনেক পরিবার এই অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
হাসপাতাল কর্মীদের সাহসিকতা: নিরাপত্তা বাহিনীর এই চাঁদাবাজি ও লাশ জিম্মি করার হাত থেকে বাঁচাতে হাসপাতালের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবারগুলোকে সহায়তা করছেন। ৯ জানুয়ারি এক নারী হাসপাতাল কর্মীদের ফোন পেয়ে দ্রুত গিয়ে তার স্বামীর লাশ উদ্ধার করেন এবং নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছানোর আগেই পিকআপ ভ্যানে করে সাত ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে নিজ শহরে নিয়ে গোপনে দাফন সম্পন্ন করেন।
বিক্ষোভের বর্তমান চিত্র: গত ২৯ ডিসেম্বর ইরানি মুদ্রার রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে:
দেশজুড়ে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার সীমিত করায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।