৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মাদারীপুরে মাদক ব্যবসায়ীর দখলবাজি ও হামলা: বৃদ্ধ মা-বাবাকে উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

admin
প্রকাশিত ০৫ জুন, শুক্রবার, ২০২৬ ১৯:০৭:৫৩
মাদারীপুরে মাদক ব্যবসায়ীর দখলবাজি ও হামলা: বৃদ্ধ মা-বাবাকে উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

সিনিয়র রিপোর্টার :: মাদারীপুরে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর দখলবাজি, হামলা ও লুটপাটের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এক বৃদ্ধ দম্পতি। পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হয়ে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা এই পরিবারটি নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

​ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বাড়ির পাশের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি, যিনি সিআইডির তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার পাশাপাশি তাদের জমি দখলের পাঁয়তারা করছেন। এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় গত বছরের ২২ অক্টোবর পরিকল্পিতভাবে বৃদ্ধ দম্পতির ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাদের মারধর করে বসতবাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়।
​ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, স্থানীয় প্রশাসন, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এবং পুলিশ সদর দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো আইনি সহায়তা মেলেনি। উল্টো অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের উপস্থিতিতেই ভুক্তভোগী বৃদ্ধ বাবার ওপর পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।
​নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়ে দীর্ঘ সময় নিখোঁজ ও মানবেতর জীবনযাপনের পর গত ১ জুন বৃদ্ধ মা-বাবা ঢাকায় তাদের সন্তানের বাসায় আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখানেও তারা স্বস্তিতে নেই। তারা জানতে পেরেছেন যে, অভিযুক্তরা তাদের পৈতৃক বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। বসতঘরের আসবাবপত্র, মূল্যবান মালামাল ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র লুট এবং নষ্ট করে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারটির।
​ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও অবহেলার সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র তাদের পরিবারকে জিম্মি করে রেখেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।
​এখন নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।