১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনে ইরানের ২৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি: ৫ আরব দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি তেহরানের

admin
প্রকাশিত ১৪ এপ্রিল, মঙ্গলবার, ২০২৬ ১৬:৩৩:১৪
মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনে ইরানের ২৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি: ৫ আরব দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি তেহরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনে দেশটির অন্তত ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রুশ সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমাহ মোহাজেরানি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে হামলায় সহায়তার অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশের কাছেও ক্ষতিপূরণ চেয়েছে তেহরান।

ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ও আইনি পদক্ষেপ

ফাতেমাহ মোহাজেরানি জানান, ২৭০ বিলিয়ন ডলারের এই হিসাবটি প্রাথমিক। বর্তমানে ইরানি অর্থনৈতিক কর্তৃপক্ষ দুটি ধাপে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছে: ১. প্রথম ধাপে ধ্বংস হওয়া ভবন ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি। ২. দ্বিতীয় ধাপে বাজেটের রাজস্ব ক্ষতি এবং শিল্পকারখানা বন্ধ থাকার প্রভাব বিশ্লেষণ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ১৭০ জন নিহতের ঘটনা উল্লেখ করে মোহাজেরানি বলেন, “আমাদের প্রিয়জনদের রক্তক্ষয়ের ক্ষতিপূরণসহ জনগণের অধিকার আদায়ে আমরা অবশ্যই আইনি পথ বেছে নেব।”

৫ আরব দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের তথ্যমতে, ইরানের ওপর হামলায় আকাশপথ বা অন্য কোনোভাবে সহায়তা করার অভিযোগে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের দূত আমির সাঈদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদে লেখা এক চিঠিতে জানান, এই রাষ্ট্রগুলো মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পথ সুগম করে দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। তাই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির দায়ভার তাদেরও নিতে হবে।

ইসলামাবাদ বৈঠক: ফলাফলহীন আলোচনা ও আশার আলো

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধি দলের মধ্যে ২১ ঘণ্টাব্যাপী এক ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ।

যদিও গত রবিবার ভোরে শেষ হওয়া এই বৈঠক থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি আসেনি, তবে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুই দেশের প্রতিনিধি দলই চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে (সম্ভাব্য শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যে) আবারও ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে পারে।

সংঘাতের প্রেক্ষাপট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করে। তেহরানও পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল, ইরাক ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে পর্যন্ত চলা এই সংঘাতে অঞ্চলজুড়ে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন। বর্তমান কূটনৈতিক তৎপরতা সফল না হলে এই অস্থিরতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।