১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মার্কিন নাগরিককে বিয়েও আর গ্রিন কার্ডের নিশ্চয়তা নয়, কড়াকড়ি বাড়াল ইউএসসিআইএস

admin
প্রকাশিত ০১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ২১:৫৯:৩৯
মার্কিন নাগরিককে বিয়েও আর গ্রিন কার্ডের নিশ্চয়তা নয়, কড়াকড়ি বাড়াল ইউএসসিআইএস

Manual8 Ad Code

ওয়াশিংটন, বৃহস্পতিবার

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের কাছে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত নথি ‘পারমানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড’ বা গ্রিন কার্ড। এই কার্ডধারীরা পূর্ণ নাগরিক না হলেও প্রায় সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন এবং পরবর্তী সময়ে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ খুলে যায়। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নাগরিককে বিয়েকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার অন্যতম সহজ উপায় হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে সেই ধারণায় বড় পরিবর্তন এসেছে।

অভিজ্ঞ মার্কিন অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, এখন আর কেবল মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (ইউএসসিআইএস) গ্রিন কার্ড আবেদনের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে।

ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ বা নিকটাত্মীয় শ্রেণিভুক্ত এবং তাঁরা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে ৩০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অভিবাসন আইনজীবী ব্র্যাড বার্নস্টাইন জানান, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

ল ফার্ম ‘স্পার অ্যান্ড বার্নস্টাইন’-এর আইনজীবী ব্র্যাড বার্নস্টাইনের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন গ্রিন কার্ড আবেদনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—স্বামী-স্ত্রী বাস্তবে একসঙ্গে বসবাস করছেন কি না। যেসব দম্পতি আলাদা থাকেন, তাঁদের আবেদন সরাসরি বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি বলেন, “ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা কেন আলাদা থাকছেন—কাজ, পড়াশোনা বা আর্থিক সমস্যার কারণ—এসব শুনতে আগ্রহী নন। তাঁদের কাছে একমাত্র বিষয় হলো, দম্পতি হিসেবে প্রতিদিন একই ঠিকানায় বসবাস করা হচ্ছে কি না।”

আইনজীবী বার্নস্টাইন জানান, দম্পতিরা যদি নিয়মিত এক ছাদের নিচে না থাকেন, তাহলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সেই বিয়েকে সন্দেহের চোখে দেখে তদন্ত শুরু করতে পারে। এমনকি তদন্ত কর্মকর্তারা বাসায় সরেজমিনে হাজির হলে আবেদন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।

ইউএসসিআইএস কেবল ঠিকানার তথ্য নয়, বরং সম্পর্কের সামগ্রিক চিত্র পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হতে চায় যে বিয়েটি প্রকৃত এবং শুধুমাত্র গ্রিন কার্ড বা অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। মার্কিন আইনে বলা হয়েছে, কোনো বিয়ে আইনগতভাবে বৈধ হলেও যদি প্রমাণ হয় যে দম্পতিরা একত্রে বসবাসের সদিচ্ছা রাখেন না এবং আইন ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই বিয়ে করেছেন, তাহলে গ্রিন কার্ড আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।

Manual7 Ad Code

এই কড়াকড়ির অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ কমিয়ে ১৮ মাস করেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিন কার্ড কর্মসূচির ওপর নজিরবিহীন কঠোরতা আরোপ করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত ১৬ ডিসেম্বর ‘উদ্বেগজনক দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত ১৯টি দেশের নাগরিকদের সব গ্রিন কার্ড পুনরায় পর্যালোচনার নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য নিহত হওয়া এবং ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে বন্দুক হামলার ঘটনায় গ্রিন কার্ডধারী অভিবাসীদের সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ডিভি লটারি কার্যক্রমও স্থগিত করে।

Manual4 Ad Code

এমন পরিস্থিতিতে আইনজীবী ব্র্যাড বার্নস্টাইন পরামর্শ দিয়েছেন, যেসব দম্পতি বিবাহিত হলেও একসঙ্গে বসবাস করছেন না, তাঁরা গ্রিন কার্ড সংক্রান্ত কোনো নথি জমা দেওয়ার আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ নিন।

Manual1 Ad Code