নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী | ৭ মার্চ, ২০২৬
রাজশাহীতে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি অভিলাস দাস তমালকে গ্রেপ্তার করেছে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তমাল দীর্ঘ দিন ধরে আদালতের সাজা এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও সাজা
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দায়েরকৃত সিআর ৩৪৫/২৪ (রাজ) নম্বর মামলায় গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদালত তমালকে সাজা প্রদান করেন। চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার সত্যতা পাওয়ায় এই রায় দেওয়া হলেও তিনি পলাতক ছিলেন।
প্রতারণার যত অভিযোগ
গ্রেপ্তারকৃত তমালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাতের পাহাড়সম অভিযোগ রয়েছে:
-
চেক ও স্ট্যাম্প জালিয়াতি: ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তমাল চেক ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। উপশহর এলাকার মাহবুবা খাতুন নীলার ১২ লাখ টাকা এবং নগরীর সজিব ও ব্যবসায়ী মনিসহ অনেকের কাছ থেকেই তিনি মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
-
অনলাইন জুয়া ও অবৈধ সম্পদ: অভিযোগ রয়েছে, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করে তিনি নিউমার্কেট এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এ সংক্রান্তে বোয়ালিয়া থানায় ২২৫/২৩ নম্বর একটি মামলাও বিচারাধীন।
-
এনজিও ঋণ: একাধিক এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
-
ছদ্মবেশ ধারণ: নিজেকে আড়াল করতে তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারের সময় বাধা
অভিযান চলাকালে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, তমালকে গ্রেপ্তারের সময় কয়েকজন কথিত সাংবাদিক ও অসাধু ব্যক্তি পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তার পক্ষ নেন। তবে পুলিশি তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত তাকে আটক করা সম্ভব হয়।
পুলিশের বক্তব্য
বোয়ালিয়া মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি এএইচএম সিরাজুর রহমান জানান:
“অভিলাস দাস তমালের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”