৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৫৩৯ কোটি টাকা ঋণ ও ৭০০ কোটি টাকা পাচার: ‘প্রতিদিনের কাগজ’-এর সম্পাদকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

admin
প্রকাশিত ০৭ মার্চ, শনিবার, ২০২৬ ২১:৩৩:৫৯
৫৩৯ কোটি টাকা ঋণ ও ৭০০ কোটি টাকা পাচার: ‘প্রতিদিনের কাগজ’-এর সম্পাদকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের (নং-১৮২৬৬১/২০২৫) প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন।

গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।

অভিযোগের মূল বিষয়সমূহ

রিট আবেদনে মো. খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে:

  • ব্যাংক হিসাব: বিভিন্ন ব্যাংকে তাঁর নামে ৩৩টি হিসাব পরিচালনার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

  • বিপুল ঋণ: প্রভাব খাটিয়ে ইসলামী ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংক থেকে মোট ৫৩৯ কোটি টাকা ঋণ উত্তোলনের অভিযোগ।

  • অর্থ পাচার: গত এক বছরে কানাডা, দুবাই ও সিঙ্গাপুরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা পাচারের দাবি করা হয়েছে।

  • স্থাবর সম্পত্তি: গাজীপুর ও ঢাকায় নামে-বেনামে একাধিক প্লট কেনার বিষয়টিও আবেদনে উঠে এসেছে।

মামলার প্রেক্ষাপট

দৈনিক ‘প্রলয়’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম এই রিটটি দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, ‘প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকায় তিন মাস চাকরি করার সময় তিনি এসব অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, পত্রিকা ব্যবসার আড়ালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে।

রিটে তথ্য ও প্রকাশনা মন্ত্রণালয়ের সচিব, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (DFP) মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশনা

আদালত বিবাদীদের কাছে জানতে চেয়েছেন—কেন সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত মো. খায়রুল আলম রফিককে লিখিত জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।

অভিযুক্তের বক্তব্য

এ বিষয়ে মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন:

“আমরা মহামান্য আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনজীবীর মাধ্যমে যথাসময়ে লিখিত জবাব দাখিল করব। অভিযোগকারী এর আগেও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছিলেন যার সত্যতা মেলেনি। যে কেউ উচ্চ আদালতে যেতে পারেন, এটি তার সাংবিধানিক অধিকার। আমরা আইনিভাবেই এটি মোকাবিলা করব।”