১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

রাতে ঘুম ভেঙে ক্ষুধা লাগে? জানুন কারণ ও সমাধান

admin
প্রকাশিত ০৭ নভেম্বর, শুক্রবার, ২০২৫ ২০:৪০:১১
রাতে ঘুম ভেঙে ক্ষুধা লাগে? জানুন কারণ ও সমাধান

Manual5 Ad Code

সংবাদ প্রতিবেদন (ফিচার আকারে):
ক্ষুধা আমাদের শরীরের স্বাভাবিক একটি সংকেত। শরীর জানে কখন খেতে হবে, কখন বিশ্রাম নিতে হবে। সাধারণত সন্ধ্যায় ক্ষুধা বেড়ে যায়, আর রাত বা সকালে তা কমে। তবে যদি মাঝরাতে কিংবা ভোরে প্রচণ্ড ক্ষুধা নিয়ে ঘুম ভেঙে যায়, তাহলে এটি শরীরের কোনো সংকেত যে প্রয়োজনীয় পুষ্টি বা বিশ্রাম ঠিকমতো মিলছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের রুটিনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই এ সমস্যা দূর হতে পারে। তবে কখনো কখনো এটি ডায়াবেটিস, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা কিংবা মানসিক চাপের ফলেও হতে পারে।


🔹 কেন রাতে ক্ষুধা লাগে?

রাতে ঘুমের সময় শরীর শক্তি ব্যবহার করে। তবু স্বাভাবিক অবস্থায় ঘুমের মাঝখানে তীব্র ক্ষুধা লাগার কথা নয়। নিচে কয়েকটি সাধারণ কারণ তুলে ধরা হলো—

  1. ঘুমানোর আগে বেশি খাওয়া:
    রাতে চিনি বা মিষ্টি খাবার খেলে রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে যায় ও দ্রুত কমে যায়। এর ফলে হঠাৎ ক্ষুধা লাগে। ঘুমানোর আগে হালকা প্রোটিন বা ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া ভালো।

    Manual5 Ad Code

  2. ঘুমের ঘাটতি:
    ঘুম কম হলে শরীরে ক্ষুধা বাড়ানো হরমোন (গ্রেলিন) বেড়ে যায়, আর তৃপ্তির হরমোন (লেপ্টিন) কমে যায়। ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়।

    Manual5 Ad Code

  3. পিএমএস (মাসিকের পূর্ববর্তী সময়):
    অনেক নারীর এ সময়ে ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা ও ক্ষুধা বাড়ে।

  4. ওষুধের প্রভাব:
    স্টেরয়েড, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, কিছু ডায়াবেটিস ও অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ ক্ষুধা বাড়াতে পারে। ওষুধ পরিবর্তনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  5. তৃষ্ণাকে ক্ষুধা মনে করা:
    শরীর পানিশূন্য হলে অনেক সময় ক্ষুধা অনুভূত হয়। তাই রাতে ক্ষুধা লাগলে প্রথমেই এক গ্লাস পানি পান করুন।

  6. মানসিক চাপ:
    কর্টিসল হরমোন বেড়ে গেলে মিষ্টি বা তৈলাক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে।

  7. অতিরিক্ত ব্যায়াম:
    রাতে বেশি ব্যায়াম করলে রক্তে শর্করা কমে যায়, ফলে ঘুমের সময় ক্ষুধা লাগে।

    Manual6 Ad Code

  8. নাইট ইটিং সিনড্রোম:
    এটি এক ধরনের খাদ্যজনিত মানসিক সমস্যা। ঘন ঘন রাতে খাওয়ার ইচ্ছা বা খাওয়ার জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া এর লক্ষণ। চিকিৎসায় সিবিটি, এসএসআরআই ও মেলাটোনিন ব্যবহার করা হয়।

  9. গর্ভাবস্থা:
    গর্ভাবস্থায় ক্ষুধা বাড়া স্বাভাবিক, তবে অস্বাভাবিকভাবে বেশি হলে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস পরীক্ষা প্রয়োজন।

  10. অন্যান্য শারীরিক সমস্যা:
    ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে শরীর শক্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না, ফলে ক্ষুধা বাড়ে।


🔹 রাতের ক্ষুধা কমানোর উপায়

✅ রাতে ভারী খাবার খাবেন না।
✅ ঘুমানোর আগে হালকা প্রোটিনসমৃদ্ধ স্ন্যাকস (যেমন এক কাপ দুধ, এক মুঠো বাদাম) খান।
✅ সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
✅ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন।
✅ মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন, শ্বাস–প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করুন।
✅ ওজন বেশি থাকলে ধীরে ধীরে কমানোর চেষ্টা করুন।


🔹 কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

  • জীবনযাত্রা পরিবর্তনের পরও যদি রাতের ক্ষুধা না কমে।

  • ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের উপসর্গ দেখা দিলে।

  • ওষুধ গ্রহণের পর ক্ষুধা বেড়ে গেলে।

  • পিএমএস বা অনিদ্রার সঙ্গে ক্ষুধা সমস্যা বেড়ে গেলে।


রাতে ঘুম ভেঙে ক্ষুধা লাগা আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ মনে হলেও এটি শরীরের পুষ্টির ভারসাম্য, মানসিক চাপ বা হরমোনের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই নিয়মিত ঘটলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

Manual3 Ad Code