বিশেষ প্রতিনিধি ও সুনির্মল সেন, সিলেট | শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে কেবল রাজনৈতিকভাবেই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও এক নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, এবার ভোটের মোট বাজেট ধরা হয়েছে ৩,১০০ কোটি টাকা, যা গত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের চেয়েও প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বেশি।
ব্যয়ের ব্যবচ্ছেদ: ভোটের চেয়ে নিরাপত্তায় জোর
ইসির তথ্যমতে, ৩,১০০ কোটি টাকার বিশাল অংকের একটি বড় অংশই ব্যয় হবে নিরাপত্তার পেছনে:
-
আইন-শৃঙ্খলা খাত: ১,৫০০ কোটি টাকা (সবচেয়ে বড় বরাদ্দ)।
-
নির্বাচন পরিচালনা: ১,২০০ কোটি টাকা।
-
অন্যান্য (গণভোট ও প্রযুক্তি): ৫০০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের প্রথম নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল মাত্র ৮১ লাখ টাকা। সেই তুলনায় ২০২৬ সালে এসে গণতন্ত্রের এই মহাযজ্ঞের ব্যয় রীতিমতো আকাশচুম্বী।
মাঠে ১৭ লাখ লোকবল
১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দেবেন দেশের প্রায় পৌনে ১৩ কোটি ভোটার। ৪৩ হাজার কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে প্রায় আড়াই লাখ ভোটকক্ষ। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামাল দিতে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং ৯ লাখ ৪৩ হাজার নিরাপত্তা সদস্যসহ মোট ১৭ লাখ লোকবল মোতায়েন করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: ‘ইউনুস ফর্মুলা’ ও নৌকাহীন নির্বাচন
এদিকে জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সুনির্মল সেনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে নির্বাচনের এক ভিন্ন চিত্র। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ ছাড়াই এবার সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সুনির্মল সেন তাঁর বিশ্লেষণে দাবি করেছেন, এটি আসলে একটি “ইউনুস ফর্মুলা”। তাঁর মতে:
-
ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা: আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীক না থাকায় বড় একটি অংশের ভোটার কেন্দ্রে নাও আসতে পারেন। এই সংকট কাটাতে একই দিনে ‘হ্যাঁ-না’ সংবলিত গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে ভোটার উপস্থিতির হার বাড়িয়ে দেখানো সম্ভব হয়।
-
নির্বাচন নাটক: বিশ্লেষকের মতে, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়ে ভোটার উপস্থিতির একটি গ্রহণযোগ্য পরিসংখ্যান তৈরির চেষ্টা চলছে, যাকে তিনি ‘মঞ্চস্থ নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নির্বাচনের সমীকরণ
এবার নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। মোট ১,৯৯৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৫৬ জন স্বতন্ত্র। সিলেটের ৪টি আসনের বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ না থাকায় মূল লড়াই হবে বিএনপি, জামায়াত এবং জাতীয় পার্টির মধ্যে।
প্রযুক্তি ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং এবং প্রবাসীদের ভোটের সুযোগ থাকলেও সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন—গণতন্ত্র কি শেষ পর্যন্ত ব্যয়ের রেকর্ড আর রাজনৈতিক কৌশলের মারপ্যাঁচে আটকে থাকবে?