১৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সপ্তমীর সকালেই নওগাঁয় গণেশ প্রতিমা ভাঙচুরের

admin
প্রকাশিত ১৭ অক্টোবর, শনিবার, ২০২৬ ২২:০৬:৫৫
সপ্তমীর সকালেই নওগাঁয় গণেশ প্রতিমা ভাঙচুরের

সপ্তমীর সকালেই নওগাঁয় গণেশ প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ! নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

খুশি রায়: দুর্গাপূজার সপ্তমী। চারদিকে যখন দেবী দুর্গার আরাধনা, মণ্ডপে মণ্ডপে পুজোর আনন্দ, ভক্তদের সমাগম এবং উৎসবের পরিবেশ, ঠিক সেই সময় নওগাঁয় একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কুড়াল দিয়ে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। এই ঘটনায় গোলাম রাব্বানি নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রশ্ন উঠছে, পুজোর সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উপাসনালয় ও প্রতিমার নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার, ১৭ অক্টোবর, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার হাসাইগাড়ি ইউনিয়নের হাতাশ খাড়াপাড়া সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই মণ্ডপে গণেশ প্রতিমা কুড়াল দিয়ে ভাঙচুর করার অভিযোগ ওঠে গোলাম রাব্বানি নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। তিনি একই ইউনিয়নের মধ্য হাতাশ পাড়ার বাসিন্দা এবং মোহাম্মদ মুসার ছেলে।

মণ্ডপে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ওই যুবককে আটক করেন। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, অভিযুক্তের বক্তব্য কী এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়েছে, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

কিন্তু এই ঘটনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো—দুর্গাপূজার মতো একটি বড় ধর্মীয় উৎসব চলাকালীন একটি সার্বজনীন পূজামণ্ডপে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগ উঠতে পারে? পুজোর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা, মণ্ডপে মণ্ডপে নজরদারি রাখা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধের আশ্বাস দেওয়া হয়। তাহলে সেই নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না কেন?

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ধর্ম যার যার, কিন্তু প্রত্যেকের ধর্মীয় বিশ্বাস, উপাসনালয় এবং ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনে যখন বারবার ধর্মীয় স্থাপনা, প্রতিমা এবং পুজোমণ্ডপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়, তখন শুধু আশ্বাস দিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যায় না। প্রয়োজন কার্যকর নিরাপত্তা, দ্রুত তদন্ত, অপরাধ প্রতিরোধ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা।

প্রশাসনের কাছে আমাদের প্রশ্ন—পুজোর সময় নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হলে, সেই নিরাপত্তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে? মণ্ডপে মণ্ডপে নজরদারি কি যথেষ্ট? এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? নওগাঁর এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য প্রকাশ করা অত্যন্ত জরুরি।

দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি বহু মানুষের বিশ্বাস, আবেগ এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। সেই উৎসবের মধ্যে যদি প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের মনে ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। সেই উদ্বেগকে উপেক্ষা না করে প্রশাসনকে তার জবাব দিতে হবে কাজের মাধ্যমে।

আমাদের দাবি, নওগাঁর এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হোক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। আমরা কোনো সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা চাই না, আমরা চাই আইনের শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা।

সপ্তমীর এই দিনে আমাদের প্রশ্ন একটাই—উৎসবের সময়ও যদি পূজামণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ দূর হবে কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর প্রশাসনকেই দিতে হবে।