সুনির্মল সেন | সিলেট
আজ ১২ই ফাল্গুন (২৫শে ফেব্রুয়ারি), মহাযোগী শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ‘পাদুকা উৎসব’। সিলেটসহ সারাদেশের লোকনাথ আশ্রম ও মন্দিরগুলোতে আজ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এই উৎসব পালিত হচ্ছে।
পাদুকা উৎসবের ঐতিহাসিক পটভূমি
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় আগে, ১৯৫৪-৫৫ সালের কোনো এক ১২ই ফাল্গুন এই উৎসবের সূচনা হয়। প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের বারদী আশ্রমে বাবার ব্যবহৃত যে কাষ্ঠ পাদুকা যুগল পূজা করা হতো, ১১ই ফাল্গুন সন্ধ্যায় অসাবধানতাবশত জ্বলন্ত অঙ্গার পড়ে সেই পাদুকা দুটির মখমল কাপড় পুড়ে যায়। পাদুকা যুগল ভস্মীভূত হলেও অলৌকিকভাবে পাদুকার ‘বৌলা’ দুটি অক্ষত থেকে যায়।
এই ঘটনায় ভক্তকূলে অমঙ্গলের আশঙ্কা দেখা দিলে পরদিন অর্থাৎ ১২ই ফাল্গুন দিনব্যাপী নাম সংকীর্তন ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। সেই থেকেই প্রতি বছর এই দিনটি ‘পাদুকা উৎসব’ হিসেবে সারা বিশ্বের লোকনাথ ভক্তদের কাছে পরিচিতি পায়।
উৎসবের সমাচার
ব্রাহ্মমুহূর্তে মন্দির খোলার পর থেকেই বাল্যভোগ, বিশেষ পূজা এবং আরতির মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। বর্তমানে এই উৎসব এক বিশাল আকার ধারণ করেছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো ভক্ত সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। ভক্তরা বাবার চরণামৃত ও রাজভোগ গ্রহণের মাধ্যমে আত্মিক শান্তি লাভ করেন।
শ্রীশ্রী লোকনাথ বাবার কালজয়ী কিছু বাণী
উৎসবের এই পুণ্যলগ্নে বাবার কিছু অমূল্য উপদেশ আজও আমাদের সঠিক পথের দিশা দেখায়:
-
“ঈশ্বরই একমাত্র সদ্গুরু। আমার চরণ ধরিস না, আচরণ ধর।”
-
“তুই যত ক্ষমতা সম্পন্ন হস না কেন, সর্বদা আইনের মর্যাদা রক্ষা করবি।”
-
“সৎ কর্মের অনুষ্ঠান করে যদি দুঃখ ভোগ করতে হয়, তবুও কায়মনোবাক্যে ঐ সৎ-কর্মের অনুষ্ঠানই করবি।”
-
“অতি কঠোর ও মর্মভেদী বাক্য বলিস না, তা অন্যের প্রাণ দগ্ধ করে।”
লেখকের পরিচয়: সুনির্মল সেন, প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক—শ্রীশ্রী লোকনাথ ভক্ত অনুরাগী পরিষদ, সিলেট।
তথ্যসূত্র: শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার জীবনী ও ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ।