আগামীকালকের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা, ঠিক তখনই মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে দীর্ঘদিনের পুরনো শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
১. সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট ও সময়
-
সময় ও স্থান: আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের পূর্ব চান্দেরচর গ্রামের গাজী মার্কেটে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
-
পক্ষসমূহ: স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল কালাইচান মাতবর গ্রুপ এবং জহিরুদ্দিন গ্রুপের মধ্যে।
-
সূত্রপাত: দুপুরে জহির গ্রুপের সদস্য সোহাগ গাজী মার্কেটে পাইপ ফিল্টারের কাজ করতে গেলে কালাইচান গ্রুপের লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে জহিরুদ্দিনের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও টেঁটা নিয়ে হাজির হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
২. হতাহতের বিবরণ
সংঘর্ষে চারজন টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন:
-
ইমরান হোসেন (২৮)
-
লিটন (৪৮)
-
সোহাগ (৩৫)
-
রিয়াজুল (২০)
আহতদের মধ্যে রিয়াজুল ও ইমরানের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে ঢাকার মিডফোর্ড হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) স্থানান্তর করা হয়েছে।
৩. বর্তমান পরিস্থিতি ও পুলিশি ব্যবস্থা
-
পুলিশি অ্যাকশন: ঘটনার পরপরই সিরাজদিখান থানার ওসি আব্দুল হান্নানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
-
নিরাপত্তা: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং এই সংঘাতের জেরে এলাকায় এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
-
আইনি পদক্ষেপ: পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, তবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে এমন টেঁটাযুদ্ধের ঘটনা সাধারণ ভোটারদের মনে নিরাপত্তার প্রশ্নে শঙ্কা তৈরি করেছে। প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে যে, ভোটের দিনের নিরাপত্তায় এর কোনো প্রভাব পড়বে না।