জাহেদ আহমেদ (শাকিল) :: সিলেট নগরীতে অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের উপস্থিতিতে এক ব্যক্তি নদীতে পড়ে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কানিশাইল ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে আটক দুই ব্যক্তিকে মোবাইল ফোনসহ উত্তেজিত জনতা পুলিশের হেফাজত থেকে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
অভিযানকালে মোহন (২৮) ও রাজা (২৯) নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাঁদের দেহ তল্লাশি করে দুটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, মোবাইল ফোন দুটিতে জুয়া খেলার বিভিন্ন অ্যাপ এবং হোয়াটসঅ্যাপে জুয়া-সংক্রান্ত বিভিন্ন বার্তা পাওয়া যায়। এ সময় টিম ইনচার্জ এসআই (নিঃ) শেখ মো. মিজানুর রহমান মোবাইল ফোন দুটি জব্দ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
এমন সময় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি পুলিশকে জানান, ঘটনাস্থলের কাছের খেয়াঘাটে পুলিশ দেখে ভয় পেয়ে এক ব্যক্তি পানিতে ঝাঁপ দিয়েছেন। খবর পেয়ে টিম ইনচার্জ দ্রুত স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে খেয়াঘাটে যান। সেখানে নদীর পাড়ে আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন ব্যক্তি ওই ব্যক্তিকে পানি থেকে তুলে তীরে আনেন। পরে পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে উপস্থিত লোকজনের কাছ থেকে মৃত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়। তাঁর নাম জজ মিয়া (৫৮)। তিনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার কান্তাল গ্রামের মুলু মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি সিলেট নগরীর কানিশাইল এলাকায় বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, মৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারের সময় ডিবি পুলিশের হেফাজতে থাকা আটক দুই ব্যক্তি মোহন ও রাজাকে উত্তেজিত জনতা ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের মোবাইল ফোনসহ নিয়ে যায় বলে পুলিশের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃতদেহ হাসপাতালের হিমাগারে
জজ মিয়ার মরদেহ বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা রয়েছে।
তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে তিনি পানিতে পড়েছিলেন, তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কী এবং আটক দুই ব্যক্তিকে পুলিশের হেফাজত থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।