৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সিলেটে বন্ধ্যা দম্পতির সন্তান জন্মদানের চিকিৎসা নিয়ে সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’র যাত্রা শুরু

admin
প্রকাশিত ২৭ জানুয়ারি, মঙ্গলবার, ২০২৬ ২২:২৫:৪৭
সিলেটে বন্ধ্যা দম্পতির সন্তান জন্মদানের চিকিৎসা নিয়ে সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’র যাত্রা শুরু

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্ক :: সিলেট জেলায় নিঃসন্তান দম্পতিদের আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রথম আইভিএফ সেন্টার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছে ‘সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ । নগরীর সুবহানীঘাটস্থ উপকন্ঠ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত সেন্টারটিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে সিলেটে নিঃসন্তান দম্পতিদের সুচিকিৎসা নিয়ে স্বপ্ন দেখেন ২১ জন গাইনোকোলজিস্ট। স্বপ্ন দেখেন একটি পূর্ণাঙ্গ আইভিএফ সেন্টারের ,যার ধারাবাহিকতায় সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’র যাত্রা শুরু হয়েছে।

Manual2 Ad Code

 

 

 

বন্ধ্যাত্ব নিরাময়ে কাজ করবে এ সেন্টার । কম খরচে টেস্ট টিউবের মাধ্যমে বন্ধ্যা মা-বাবার সন্তান জন্মদানে সার্বিক চিকিৎসা প্রদানে এটিই সিলেটের প্রথম ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নিঃসন্তান মহিলারা রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৫ জানুয়ারি ২৬ ইং) সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আইবিএফ(IVF), আইসিএসআই(ICSI), আইইউআই(IUI), এমব্রো ফ্রিজিং সহ অন্যান্য চিকিৎসা এবং নিঃসন্তান দম্পতিদের সার্বিক চিকিৎসার জন্য সেন্টারটি উদ্বোধন করা হয়।

 

 

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রখ্যাত শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তার তারেক আজাদ বলেন, কম খরচে টেস্ট টিউবের মাধ্যমে বন্ধ্যা মা-বাবার সন্তান জন্মদানের জন্য ‘সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যে সকল দম্পতির ‘স্বাভাবিক ভাবে সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা নেই, সে সকল নিঃসন্তান দম্পতিরা আইভিএফ পদ্ধতিতে ভ্রূণ ট্রান্সফার করে যাতে সন্তান জন্ম দিতে পারেন এবং মাতৃত্বের স্বাদ পেয়ে মায়ের মুখেও আত্মতৃপ্তির হাসি ফুটে। তিনি আরও বলেন, তাদের হাসপাতালে মা ও শিশুদের গাইনি রোগ ও বাচ্চাদের নানা ধরনের জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসায় সফলতা রয়েছে।

 

Manual3 Ad Code

 

 

 

Manual5 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

কিন্তু সিলেটের নিঃসন্তান দম্পতিরা সন্তানসম্ভবা হতে পারছেন না, এ নিয়ে পরিবারগুলোতে চরম অশান্তি দেখা দেয়। সন্তান জন্ম দিতে না পারা স্ত্রীকে স্বামী-শাশুড়ি ও পুরো পরিবার নানাভাবে নিগৃহীত করেন। এটা আমাদেরকে ব্যথিত করে। সে ব্যথা থেকে সাধারণ গাইনি চিকিৎসার পাশাপাশি ইনফার্টিলিটি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছি। এ প্রতিষ্ঠানে আধুনিক সর্বশেষ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে । আইভিএফ ও আইইউআই কার্যক্রমের মাধ্যমে আশা করি এটাতে সফলতা পাওয়া যাবে। এ কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তায় রয়েছেন গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তার নমিতা রানী সিনহা সহ সকল গাইনী বিশেষজ্ঞগণ। অধ্যাপক নামিতা রানী সিনহা জানান,মেয়েদের জরায়ুতে অ্যাডোনোমাইসিস নামের এক প্রকার রোগ হয়ে থাকে। এতে নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ রোগ নিরাময়ের জন্যে ভারতে একাধিক হাইপো সেন্টার গড়ে উঠেছে। ননসার্জিকেলি চিকিৎসা দিতে এটি একটি হাইপো সেন্টার। এছাড়া সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে নিঃসন্তান মায়ের ভ্রূণ ট্রান্সফার প্রক্রিয়া শুরুর ৯ মাস পর টেস্টটিউব শিশুর জন্ম হবে। টেস্টটিউব প্রক্রিয়া এবং আই.ইউ.আই প্রক্রিয়ায় নিঃসন্তান দম্পতিরা মা হতে পারবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাক্তার জিয়াউর রহমান বলেন, সিলেটে এই প্রথম চালু হচ্ছে আইবিএফ, আইইউআই কার্যক্রম সিলেটের একমাত্র ইনফার্টিলিটি সেন্টার জানিয়ে বলেন, ‘নিঃসন্তান দম্পতির জন্য এটি অত্যন্ত ভালো কাজ। এ কাজে ইনশা-আল্লাহ ব্যাপক সফলতা পাওয়া যাবে। তিনি আরও জানান, সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে IVF (In Vitro Fertilization) বা টেস্ট টিউব বেবিঃ শরীরের বাইরে ল্যাবে কৃত্রিমভাবে নিষিক্তকরণ। ICSI (Intra-Cytoplasmic Sperm Injection)একটি সুস্থ শুক্রাণুকে সরাসরি ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ করানো। IUI (Intrauterine Insemination): জরায়ুর ভেতরে শুক্রাণু স্থাপন। Embryo Freezing: ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য ভ্রূণ হিমায়িত করে রাখা। Sperm freezing: শুক্রানু হিমায়িত করে রাখা। Frozen embryo transfer (FET) ; হিমায়িত ভ্রুন জরায়ুতে প্রতিস্থাপন চিকিৎসা রয়েছে। অধ্যক্ষ জিয়াউর রহমান আরও জানান, আইভিএফ-এর ক্ষেত্রে বয়স সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। সাধারণত প্রতিবার ভ্রূণ প্রতিস্থাপনে (Embryo Transfer) সাফল্যের হার নিম্নরূপ: ৩৫ বছরের নিচে: সাফল্যের হার সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪০% থেকে ৫০% [১.৪.১৪]। • ৩৫ থেকে ৩৭ বছর: সাফল্যের হার প্রায় ৩৫% থেকে ৪০%। ৩৮ থেকে ৪০ বছর: সাফল্যের হার প্রায় ২০% থেকে ২৫%। ৪০ বছরের উপরে: সাফল্যের হার সাধারণত ১০% থেকে ১৫% বা তার কম হতে পারে। খরচঃ একটি সাধারণ আইভিএফ চক্রের (IVF Cycle) খরচ সাধারণত ৩৫০০০০-৪০০০০০ টাকার ভেতরে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাক্তার হিমাংশু দাস সৌম্য এর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার নাতিয়া রাহনুমা, ডাক্তার নুজহাত শারমিন উর্মি, ডাক্তার দ্বীপান্নিতা ঘোপ, ডাক্তার শামীমা আক্তার শিপা,রেবেকা সুলতানা নিশু প্রমূখ।