সিলেটে শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না,শাবিপ্রবিকে বৈষম্যহীন ওশিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ভাইস চ্যান্সেলর
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটে যথাযথ মর্যাদায় ও গভীর শ্রদ্ধায় পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’। এ উপলক্ষে কালো ব্যাজ ধারণ, র্যালি এবং পরবর্তী আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সাথে তিনি শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং মেধাভিত্তিক শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আজ ১৬ জুলাই, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয় ডিনবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধানগণ, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তাঁর এই বার্তা তুলে ধরেন।
ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ২০২৪ সালের সেই রক্তঝরা দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজও আমাদের বুক কেঁপে ওঠে, আবার একই সাথে এক বুক গর্বে মাথা উঁচু হয়ে যায়। আজ আমরা পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেই সব সাহসী বীর সন্তানদের, যারা শোষণ, বৈষম্য আর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বুক পেতে দিয়ে আমাদের একটি নতুন স্বাধীন মানচিত্র, একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন।
ভাইস চ্যান্সেলর তাঁর বক্তব্যে দুই বছর আগের এই দিনে রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ, চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম এবং অন্যান্য শহীদদের মহান আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাঁদের বুকের রক্ত দিয়ে রচিত প্রতিরোধের ভাষা সে সময় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। এই আত্মত্যাগই পুরো আন্দোলনকে একটি নতুন গতি দিয়েছিল, যা পরবর্তীতে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বৈরাচারের পতন নিশ্চিত করে। আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ও শাবিপ্রবির প্রিয় শিক্ষার্থী রুদ্র সেনের অবদানের কথা তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন এবং আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও কৃতজ্ঞতা জানান।
গণঅভ্যুত্থান সকলের সম্মিলিত অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, দল বা মতাদর্শের অর্জন নয়। এটি বৈষম্য ও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বস্তরের সম্মিলিত অর্জন। ছাত্র-জনতার এই ঐতিহাসিক লড়াই প্রমাণ করেছে যে, বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হলে যেকোনো অসম্ভবকে জয় করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, মুক্তচিন্তা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের ঐতিহাসিক ক্যাম্পাস শাবিপ্রবি। শাবিপ্রবিকে সম্পূর্ণ বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত থাকবে। শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের পদক্ষেপ হিসেবে একাডেমিক উৎকর্ষতা অর্জন করা হবে। মুক্ত ও আধুনিক গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রত্যেকের প্রতিভার বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
ভাইস চ্যান্সেলর তাঁর বক্তব্যের শেষভাগে বলেন, আসুন, আজ এই জুলাই শহীদ দিবসে আমরা সবাই মিলে শপথ নেই শহীদদের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেব না। তাঁদের স্বপ্নের সেই নতুন বাংলাদেশ ও একটি আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাব।
আলোচনা সভায় বিশেষ অথিতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ ইসমাইল হোসেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জুলাই শহীদ দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মোঃ আহমদ কবির চৌধুরী। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক মোঃ মোখলেসুর রহমান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফ উদ্দিন, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক মুহ. মিজানুর রহমান,পলিটিক্যাল স্ট্যাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ নজরুল ইসলাম, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ কামরুল ইসলাম, পলিটিক্যাল স্ট্যাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. দিলারা রহমান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. খালিদুর রহমান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজোয়ান আহমদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ মাহবুব ফেরদৌসী, অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মখলিছুর রহমান পারভেজ, শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের ভাই আবুল আজরফ আহসান জাবুর, শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান, ইসলামী ছাত্রশিবির শাবিপ্রবি শাখার সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন, জাতীয় ছাত্রশক্তি শাবিপ্রবি শাখার আহবায়ক রশিদ আবরার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ফয়সাল হোসেন, শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোঃ সোহাগ, জাতীয় ছাত্রশক্তি শাবিপ্রবি শাখার সদস্য সচিব রিয়াজ হোসেন রিমন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মাহাবুল ইসলাম পবন, শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আদনান মোহন, সহায়ক পরিবহন সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এবং কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ।
এছাড়া অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মোঃ ফয়ছল আহমেদ।