বিশ্লেষণ: সুনির্মল সেন | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসকের চেয়ারে বসার পর থেকেই পাল্টে গেছে নগর রাজনীতির সকল হিসাব-নিকাশ। সম্প্রতি সরকার সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও রাজপথের ত্যাগী নেতা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই নিয়োগের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি আগামী সিটি নির্বাচনে কাইয়ুম চৌধুরীই হতে যাচ্ছেন বিএনপির প্রধান কাণ্ডারি?
কেন কাইয়ুম চৌধুরী আলোচনায়?
-
তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা: সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন তিনি। দলের কঠিন সময়ে তাঁর আপসহীন ভূমিকা তাঁকে নেতাকর্মীদের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে।
-
পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি: রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলায় কাইয়ুম চৌধুরীর ব্যক্তি ইমেজ অত্যন্ত স্বচ্ছ। নগরীর সাধারণ নাগরিকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, একজন সজ্জন ও নীতিবান মানুষ হিসেবে তিনি সিসিকের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
-
প্রশাসক হিসেবে সুযোগ: বর্তমানে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরাসরি নগরীর উন্নয়ন ও জনসেবার সুযোগ পাচ্ছেন। এই সময়ে যদি তিনি নাগরিক সমস্যা সমাধানে সফল হন, তবে মেয়র নির্বাচনে সেটি তাঁর জন্য বিশাল প্লাস পয়েন্ট হবে।
নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মোড়
সিলেটে বিএনপির রাজনীতিতে অনেক হেভিওয়েট নেতা থাকলেও কাইয়ুম চৌধুরীর এই বর্তমান অবস্থান তাঁকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে। বিএনপি ঘরানার ভোটার এবং সাধারণ নাগরিকদের অনেকের বিশ্লেষণ বলছে—
“কাইয়ুম চৌধুরীকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে দল হয়তো তাঁকে আগামীর বড় লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করছে। এটি একদিকে যেমন তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা প্রমাণের পরীক্ষা, অন্যদিকে জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ।”
উপসংহার
সিলেট নগরের রাজনীতিতে সবসময়ই চমক থাকে। আরিফুল হক চৌধুরীর দীর্ঘ মেয়াদের পর বিএনপির নতুন মুখ হিসেবে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী কতটা সফল হন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ কথা বলাই বাহুল্য যে, সিসিকের মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়নের দৌড়ে তিনি এখন সবার চেয়ে এগিয়ে।