১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

হাতিয়ায় চরের জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি

admin
প্রকাশিত ২৪ ডিসেম্বর, বুধবার, ২০২৫ ২১:৫৩:১৪
হাতিয়ায় চরের জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি

Manual1 Ad Code

নিহত ৫, একজন নিখোঁজ, এলাকায় উত্তেজনা

Manual6 Ad Code

নোয়াখালী, বুধবার— নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন আহত ও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Manual3 Ad Code

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী জাগলার চরে এই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে সুখচর ইউনিয়নের চর আমান উল্যাহ গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে মো. আলাউদ্দিন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাকি চারজনের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, নিহত পাঁচজন হলেন— সুখচর ইউনিয়নের চর আমান উল্যাহ গ্রামের মো. আলাউদ্দিন, জাহাজমারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সামছুর ছেলে মোবারক হোসেন সিহাব, সুবর্ণচর উপজেলার চরমজিদ ইউনিয়নের জয়নাল আবেদিনের ছেলে আবুল কাশেম, হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হকসাব এবং উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের কামাল উদ্দিন।

Manual5 Ad Code

এ ঘটনায় সোরাব উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি আহত হন। তাঁকে পুলিশ উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। তাঁর বাড়ি নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে।

এদিকে বুধবার সকালে জাহাজমারা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সামছুর স্ত্রী মাহফুজা বেগম হাতিয়া থানায় এসে একটি মরদেহ শনাক্ত করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে বড় ছেলে ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তাঁর পিতাকে চরের জমির লোভ দেখিয়ে কিছু লোক নিয়ে যায়। থানায় এসে ভাইয়ের মরদেহ পেলেও বাবার মরদেহ পাননি। নিখোঁজ পিতাকে উদ্ধারের জন্য তাঁরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পুলিশ জানায়, গোলাগুলির ঘটনায় মো. সামছু নামে একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। চরে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। থানায় আনা চারটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাগলার চরের জমি এখনো সরকারিভাবে কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। এ সুযোগে গত ৫ আগস্টের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের একটি প্রভাবশালী গ্রুপ চরের জমি বিক্রি করে। পরে পাশ্ববর্তী সুখচর ইউনিয়নের আরেকটি গ্রুপ ওই জমির দখল নিতে তৎপর হয়। এ নিয়ে গত দুই মাস ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে।

Manual2 Ad Code