স্পোর্টস ডেস্ক | সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
নারী এশিয়ান কাপের অভিষেক আসরে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়ছে বাংলাদেশ। চীনের কাছে ২-০ গোলে হারের পর এবার উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে এই বড় হারের পরও দলের ওপর আস্থা হারাননি কোচ পিটার বাটলার; বরং শিষ্যদের পারফরম্যান্সে তিনি গর্বিত।
প্রথমার্ধের লড়াই ও শেষ মুহূর্তের বিপর্যয়
সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে আজ ম্যাচের শুরু থেকেই রক্ষণে দেয়াল তুলে দিয়েছিল বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে থাকা উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিট পর্যন্ত জাল অক্ষত রেখেছিল পিটার বাটলারের দল। কিন্তু প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের ২ মিনিটের ব্যবধানে দ্রুত ২ গোল হজম করে বসে মারিয়া মান্দারা। বিরতির পর উত্তর কোরিয়া আরও ৩টি গোল করলে ৫-০ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
‘আমি হতাশ নই’ – পিটার বাটলার
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ বাটলারের কণ্ঠে ঝরেছে ইতিবাচক সুর। তিনি বলেন:
“আমি দুঃখিত বা হতাশ নই। এই মেয়েদের নিয়ে আমি গর্বিত। আপনারা কি প্রতিপক্ষ দলের শক্তির কথা ভেবেছেন? র্যাঙ্কিংয়ের পার্থক্য মাথায় রাখলে ৩০ মিনিটেই ৩ থেকে ৫টি গোল হয়ে যেতে পারত। মেয়েরা তাদের সবটুকু দিয়েছে।”
বাটলার স্বীকার করেছেন যে পজেশন ধরে রাখা এবং বল ছাড়া কঠোর পরিশ্রমের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঘাটতি ছিল, তবে চীনের (১৭তম) ও উত্তর কোরিয়ার (৯ম) মতো শীর্ষ দলের বিপক্ষে খেলাটা যে সহজ নয়, তা তিনি মনে করিয়ে দেন।
চীনের পর কোরিয়া বধের বাধা: গোলরক্ষক মিলি
দলের বড় হারের মাঝেও উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে ছিলেন গোলরক্ষক মিলি। নিয়মিত গোলরক্ষক রূপনা চাকমার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়ে মিলি আজ চীনের মতো উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষেও বীরত্ব দেখিয়েছেন। তার অসাধারণ দক্ষতায় নিশ্চিত ৫টি গোল থেকে রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ। মিলির ভূয়সী প্রশংসা করে বাটলার বলেন:
-
“মিলি একজন সত্যিকারের ব্যক্তিত্ব এবং একজন সৈনিক।”
-
“তার জীবনযুদ্ধ এবং জেদ প্রশংসার দাবি রাখে।”
-
“সে এই সুযোগটি পাওয়ার যোগ্য এবং তার ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল।”
ম্যাচ স্কোরকার্ড একনজরে
-
ফলাফল: উত্তর কোরিয়া ৫ – ০ বাংলাদেশ
-
গোলদাতা: কিম কিয়ং ইয়ং (২টি), মিওন ইউ জং, চে উন ইয়ং ও কিম হাই ইয়ং।
-
মাইলফলক: মিওন ইউ জং ৪৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ডেডলক ভাঙেন।
তপ্ত আবহাওয়ার প্রতিকূলতা কাটিয়ে এশিয়ান কাপের মতো বড় মঞ্চে বাংলাদেশের মেয়েদের এই লড়াকু মানসিকতাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা।