৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্লাস্টিক বর্জ্য খেয়ে প্যারাসিটামল বানাচ্ছে ব্যাকটেরিয়া

admin
প্রকাশিত ২৬ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার, ২০২৫ ২১:১৯:২৪
প্লাস্টিক বর্জ্য খেয়ে প্যারাসিটামল বানাচ্ছে ব্যাকটেরিয়া

 

প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহারের এক অভিনব উপায় উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। জিনগতভাবে পরিবর্তিত ‘ইশেরিশিয়া কোলি’ (ই. কোলি) ব্যাকটেরিয়াকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা প্লাস্টিকজাত অণু হজম করে ব্যথানাশক ওষুধ প্যারাসিটামল উৎপাদন করতে পারে।

 

 

 

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিবিসি জানায়, গবেষণাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল বায়োটেকনোলজির অধ্যাপক স্টিফেন ওয়ালেস। তাঁর মতে, পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত নিরীহ ই. কোলি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জৈবপ্রযুক্তি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর আগে তাঁর দল একই ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে প্লাস্টিক থেকে ভ্যানিলা স্বাদ ও নর্দমার ‘ফ্যাটবার্গ’ থেকে সুগন্ধি উৎপাদন করেছিল।

ই. কোলিকে কার্যকর মনে করা হয় কারণ এটি দ্রুত বৃদ্ধি পায়, সহজে জিনগত পরিবর্তন করা যায়, বিদেশি ডিএনএ ধারণ করতে পারে এবং জমিয়ে রেখেও সচল রাখা সম্ভব। এ কারণে ১৯৭৮ সালে প্রথম কৃত্রিম মানব ইনসুলিন উৎপাদনে এবং ১৯৯৭ সালে পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সে এই জীবাণু ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে ইনসুলিনসহ জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, রাসায়নিক ও জ্বালানি তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এটি।

 

 

 

 

তবে গবেষকদের একাংশ মনে করেন, ই. কোলির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অন্য সম্ভাবনাময় ব্যাকটেরিয়াগুলোকে আড়ালে রাখছে। তাঁদের মতে, প্রাকৃতিকভাবেই আরও অনেক জীবাণু রয়েছে, যেগুলো বর্জ্য খেয়ে তা কার্যকর উপাদানে রূপান্তর করতে সক্ষম।

এই প্রেক্ষাপটে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসছে ‘ভাইব্রিও ন্যাট্রিজেনস’। যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় জলাভূমি থেকে সংগৃহীত এ ব্যাকটেরিয়া ই. কোলির চেয়েও দ্বিগুণ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং জিন গ্রহণে অধিক কার্যকর। গবেষকেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে টেকসই জ্বালানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে জেট ফুয়েল উৎপাদন কিংবা দুর্লভ ধাতু আহরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবুও শিল্পমান ও গবেষণার দিক থেকে এখনো পর্যন্ত ই. কোলিকেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মানছেন বিজ্ঞানীরা।