৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলা: সিলেটে আদালতে মন্ত্রী আরিফ, হুইপ গউছ ও বাবরসহ ৮ জনের বক্তব্য প্রদান

admin
প্রকাশিত ০৭ এপ্রিল, মঙ্গলবার, ২০২৬ ১৮:৫০:৫৬
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলা: সিলেটে আদালতে মন্ত্রী আরিফ, হুইপ গউছ ও বাবরসহ ৮ জনের বক্তব্য প্রদান

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া, সিলেট:

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ.এম.এস কিবরিয়া হত্যা এবং সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিজেদের বক্তব্য প্রদান ও পরীক্ষা দিয়েছেন বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, হুইপ এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রীসহ ৮ জন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুরে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে ৩৪২ ধারায় তারা নিজ নিজ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এর আগে তিন হাইপ্রোফাইল নেতা আকাশপথে সিলেটে পৌঁছান এবং সশরীরে শুনানিতে অংশ নেন।

আদালতে উপস্থিত শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ

মামলায় হাজিরা ও বক্তব্য প্রদান করতে উপস্থিত ছিলেন: ১. আরিফুল হক চৌধুরী: বর্তমান সরকারের শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী। ২. আলহাজ্ব জি.কে. গউছ: বর্তমান সরকারের হুইপ (হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র)। ৩. লুৎফুজ্জামান বাবর: সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সাক্ষ্য গ্রহণ ও আদালতের কার্যক্রম

আদালতের সরকারি কৌশলী (পিপি) মো. আবুল হোসেন জানান, শাহ এ.এম.এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় আজ রহমত আলী নামে একজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এছাড়া সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় আরও চারজন সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্য গ্রহণকালে কারাগারে থাকা আসামিদেরও আদালতে হাজির করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী এটিএম ফয়েজ জানান, আজ আসামিদের পরীক্ষা ও বক্তব্য গ্রহণ শেষে আদালত আগামী ২১ এপ্রিল (২০২৬) মামলার পরবর্তী যুক্তিতর্কের তারিখ ধার্য করেছেন।

কারাগারে থাকা আসামিদের উপস্থিতি

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের (বাধাঘাট) সিনিয়র জেল সুপার নাসির উদ্দিন প্রধান জানান, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামিসহ অন্য হাজতিদের আদালতে হাজির করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন:

  • মহিব উল্যাহ অভি: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি (গোপালগঞ্জ)।

  • মুফতি মঈন ওরফে আবু জান্দাল: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি (নড়াইল)।

  • হাফেজ মো. নাঈম: হাজতি (সুনামগঞ্জ)।

  • মো. আব্দুল মাজেদ বাট: হাজতি (কাশ্মীর, ভারত)। এছাড়া জামিনে থাকা নাজমুল নামে একজনও আজ আদালতে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সিলেট সদর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মাহমুদুল হাই পিপিএম জানান, বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ও হুইপ মহোদয়গণের উপস্থিতির কারণে আদালত পাড়ায় উৎসুক মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো আদালত এলাকা কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল।

মামলার প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এক যুবলীগ কর্মী নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। ওই ঘটনায় দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর এ ঘটনায় লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী এবং জি.কে. গউছসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।