ক্রীড়া প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশের বৈশাখী তপ্ত রোদে যখন হাঁসফাস অবস্থা সবার, তখন মিরপুরের উইকেটে গতির আগুন ঝরালেন তরুণ ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে বল হাতে কেবল উইকেটই নেননি, নিয়মিত ১৪৫-১৫০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের মনে রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করেছেন তিনি। সিরিজের শেষ ম্যাচে তার একটি বলের গতি ছুঁয়েছে ১৫১ কিলোমিটার, যা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বিরল।
ধারাবাহিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়ে জিতে নিয়েছেন ‘সিরিজসেরা’র পুরস্কার। একজন খাঁটি ‘এক্সপ্রেস’ বোলারকে দলে পেয়ে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
মিরাজের কণ্ঠে মুগ্ধতা
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ রানাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অধিনায়ক মিরাজ। তিনি বলেন:
“এটা আমাদের দেশের ক্রিকেটের বড় আশীর্বাদ। নিয়মিত সে যদি ১৪৫-১৫০ প্লাস গতিতে বোলিং করতে পারে, এটা দলের জন্য বিরাট একটা দিক। প্রতিপক্ষ চাপে পড়ে যায়। সে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একই গতিতে বল করতে পারে, এটা একটা বিরাট অর্জন।”
মিরাজ আরও জানান, মাঠের ভেতরে রানার আত্মবিশ্বাস অধিনায়ক হিসেবে তাকে অনেক স্বস্তি দেয়। যেকোনো পরিস্থিতিতে রানা বোলিং করতে মুখিয়ে থাকেন, যা দলের জন্য ইতিবাচক।
সম্পদ রক্ষায় বিশেষ নজর
গতির রাজাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো ইনজুরি। নাহিদ রানা যাতে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলকে সেবা দিতে পারেন, সেজন্য তার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট বা যত্নের বিষয়টি এখন বিসিবির অগ্রাধিকার তালিকায়। অধিনায়ক মিরাজ এ বিষয়ে সচেতনতা প্রকাশ করে বলেন:
“সে আমাদের সম্পদ। আমরা অবশ্যই ওকে অনেক যত্ন করব, এটা আমাদেরই দায়িত্ব। অনেক সময় খেলানোর চেয়ে ইনজুরির ঝুঁকিটা মাথায় রাখা বেশি জরুরি। আমরা সেই পরিকল্পনা মেনেই ওকে এগিয়ে নেব।”
কেন স্পেশাল এই রানা?
-
নিয়মিত গতি: বাংলাদেশের কন্ডিশনেও নিয়মিত ১৪৫-১৫০ কিমি গতি বজায় রাখা।
-
মানসিকতা: চাপের মুখেও আক্রমণাত্মক বোলিং করার সাহস।
-
ফিটনেস: স্পেলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গতির কোনো পতন না ঘটা।
নাহিদ রানার হাত ধরে বাংলাদেশ পেস বোলিং ইউনিট এখন নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখছে। ক্রিকেট ভক্তদের প্রত্যাশা, সঠিক পরিচর্যায় এই তরুণ পেসার ভবিষ্যতে বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটারদের জন্য আতঙ্ক হয়ে দাঁড়াবেন।