১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কোম্পানীগঞ্জে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকায় বাপাউবো’র চলমান প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী

admin
প্রকাশিত ১৫ জুন, সোমবার, ২০২৬ ২০:৫৯:৫৬
কোম্পানীগঞ্জে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকায় বাপাউবো’র চলমান প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী

কোম্পানীগঞ্জে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকায় বাপাউবো’র চলমান প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী

কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট): সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) বাস্তবায়নাধীন চলমান নদী ব্যবস্থাপনা ও নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী জনাব ফরহাদ হোসেন আজাদ।

সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকার ধলাই নদীতে চলমান নদীর তীর পরীক্ষা ও খনন কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিন মিয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার, থানার ওসি (তদন্ত) সুজন কর্মকারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী আব্দুল মান্নান মনাফ, উপস্থিত ছিলেন সাবেক জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী শাহাবুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর, সিনিয়র সহ-সভাপতি শওকত আলী বাবুল, উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়া , কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের অন্যতম সদস্য মানিক মিয়া,সোনা মিয়া, মুজাফফর , উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম সহ উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা।
এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিএনপি’র উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রীর বক্তব্য

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাদা পাথর এলাকায় নৌ চলাচল সচল রাখতে নদী খনন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালানো হচ্ছে। দুই পাড়ে খননকৃত বালু ও পাথর ব্যবস্থাপনা করে ব্লক বা অন্যান্য টেকসই কাঠামোর মাধ্যমে তীর সংরক্ষণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের কাজ সময়মতো সম্পন্ন হলে ধলাই নদীতে নৌ চলাচল সহজ হবে এবং স্থানীয় পর্যটন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও মতামত

পরিদর্শনকালে স্থানীয় বিএনপি নেতারা নদী খনন ও তীর সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাবুদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত ব্লক ও স্থায়ী কাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে সঠিকভাবে নদী খননের মাধ্যমে প্রাকৃতিক প্রবাহ বজায় রাখা হলে দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর হতে পারে।

তিনি আরও দাবি করেন, পাহাড়ি এই অঞ্চলে নদীর গতিপথ ও বন্যার ধরন পরিবর্তনশীল হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সতর্কতা প্রয়োজন।

অন্যদিকে স্থানীয়দের একটি অংশ মত দেন, খননকৃত বালু-পাথর সুষ্ঠুভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা গেলে ব্যয় কমবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

প্রকল্প ঘিরে প্রত্যাশা

স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চলমান এই নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হলে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকায় নৌ চলাচল স্বাভাবিক হবে, পর্যটন সুবিধা বাড়বে এবং নদীভাঙন রোধে টেকসই সমাধান পাওয়া যাবে।

প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।