জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা
জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা
admin
প্রকাশিত ১৫ জুলাই, বুধবার, ২০২৬ ০৯:৪৫:৫৫
জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা বাড়ছে। পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি এবার নতুন কয়েকটি মুখও আলোচনায় উঠে আসায় নির্বাচনকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ।
সরকার ও নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। চলতি বছরের শেষ প্রান্তিক, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাশাপাশি ধাপে ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেনি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর স্থানীয় সরকার কাঠামো পুনর্গঠন এবং সংশ্লিষ্ট আইন সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে যাদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন জকিগঞ্জ পৌরসভার প্রথম ও প্রতিষ্ঠাকালীন মেয়র, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সিলেট জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক বিএনপি নেতা ইকবাল আহমদ তাপাদার, জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক, গবেষক ও সালিশি ব্যক্তিত্ব হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, বিশিষ্ট সমাজসেবক, সাবেক ছাত্রনেতা ও পূর্ববর্তী উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী সুয়েব লস্কর, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গোলাম রোকবানী জাবেদ, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুস ছবুর, বিএনপি নেতা মো. শাহীন আহমদ, মাওলানা বিলাল আহমদ ইমরান, ফয়জুল ইসলাম চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।
এছাড়া এককভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে খেলাফত মজলিসের মাওলানা মখলিছুর রহমানসহ আরও কয়েকজনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনার কথাও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শোনা যাচ্ছে।
তবে উল্লেখিত ব্যক্তিদের কেউই এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে আলোচনা থাকলেও বিষয়টি এখনও পুরোপুরি অনুমাননির্ভর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী মাঠ আরও জমে উঠবে। তখন দলীয় সমর্থন, রাজনৈতিক সমীকরণ, জোটগত অবস্থান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে।
নির্বাচন নিয়ে সম্ভাব্য প্রস্তুতি
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এরপর পর্যায়ক্রমে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণ আরও সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে কেন্দ্র ও বুথ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়েছে। আলোচনায় থাকা খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ এবং বুথভিত্তিক ভোটার সংখ্যা পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান—এই তিনটি পদে ভোট গ্রহণ করা হয়ে থাকে। একজন ভোটার পৃথক তিনটি ব্যালটের মাধ্যমে নিজ নিজ প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।
তবে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক তফসিল, নির্বাচনী বিধিমালা ও চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা না করা পর্যন্ত এসব বিষয় পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। তাই প্রার্থী ও ভোটার—উভয়েরই কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে।