সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দি ও হাদারপাড় এলাকায় বালু মহালের ইজারার আড়ালে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে ইজারার শর্ত অমান্য করে পাথর ও বালু উত্তোলন করছে। এতে পরিবেশ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং এলাকার জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহ আলম স্বপন এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা তাতীদলের নেতা আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, হাদারপাড় বালু মহালের অনুমতির বাইরে বিছনাকান্দি সীমান্ত এলাকা ও মনরতল বাজারসংলগ্ন স্থান থেকেও পাথর ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রতিদিন শত শত ট্রলার এবং একাধিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীর তলদেশ কেটে পাথর ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কা, নদীভাঙন বৃদ্ধি এবং কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও মনরতল বাজার হুমকির মুখে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর তদারকি না থাকায় এ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, তাদের অভিযোগ ও গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশের পরও দৃশ্যমান কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি।
পরিবেশবিদ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দিতে এ ধরনের উত্তোলন চলতে থাকলে প্রাকৃতিক পরিবেশ, স্বচ্ছ পানির প্রবাহ এবং জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি বলেন আমি মাত্র কয়েকদিন হলো দায়িত্ব নিয়েছি তবে এ বিষয়ে আমি কোন অবগত নয়, তারপরও আমি খোঁজ নিয়ে দেখতেছি ।
অন্যদিকে, শাহ আলম স্বপন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বালু মহালটি আব্দুল মান্নান ইজারা নিয়েছেন এবং ইজারার নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই বালু উত্তোলন হচ্ছে। সীমানার বাইরে উত্তোলনের সুযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ উত্তোলন বন্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হোক।