১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার নিহতের ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা আরিফ ইফতেখার দেশে ফিরলেই দাফন

admin
প্রকাশিত ১৩ আগস্ট, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ১৬:৩৯:৩৮

সিলেট নগরের রায়নগর আবাসিক এলাকার আলোচিত ত্রিমুখী হত্যাকাণ্ডে নিহত ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের দাফন প্রবাসী সন্তানদের দেশে ফেরার পর সম্পন্ন হবে। তাঁদের চার সন্তানই প্রবাসে থাকেন। দুই মেয়ে যুক্তরাজ্য এবং দুই ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দুই মেয়ে আজ বৃহস্পতিবার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তাঁদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল সাড়ে নয়টায় অবতরণের কথা থাকলেও বিলম্বের কারণে দুপুর দেড়টার দিকে সিলেটে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নিহত দম্পতির ছেলে ও সাবেক ছাত্রদল নেতা আরিফ ইফতেখার আগামীকাল শুক্রবার দেশে আসবেন।

এদিকে, ঘাতকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত দম্পতির মরদেহ বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আজ তাঁদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

গতকাল বুধবার সকালে নগরের রায়নগর মিতালী এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্দেহভাজন হিসেবে বাবুল মিয়াকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, বাবুল মিয়া গৃহকর্মী তাহমিনার পরিচিত ও প্রেমিক। ঘটনার দিন সকালে তাহমিনার সম্মতিতে সে ওই বাসায় প্রবেশ করে। সেখানে অনৈতিক প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তাহমিনার সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করা হয়।

তাহমিনার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাঁকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর ভেতর থেকে দরজা লক করে ব্যালকনি দিয়ে পালিয়ে যায় বাবুল। পরে বাসার পাশের একটি জঙ্গলাকীর্ণ মাঠে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি ফেলে দেয় বলে পুলিশকে জানায় সে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে স্থানীয়দের সহায়তায় বাবুলকে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পর সে এলাকা ছেড়ে যায়নি। রায়নগর রাজবাড়ির আক্তার মিয়ার কলোনিতে অবস্থান করছিল। পরে সাদাপোশাকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ওসি বলেন, আটকের সময় বাবুলের পরনে লাল রঙের টি-শার্ট ছিল। তাঁর হাতে ছুরিকাঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহতের মেয়েদের সঙ্গে পুলিশের কথা হয়েছে; তাঁরা দেশে ফিরছেন।

চার সন্তান বিদেশে থাকায় প্রবীণ এই দম্পতির দেখাশোনার জন্য গৃহকর্মী তাহমিনাকে রাখা হয়েছিল। সেই গৃহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র ধরে ঘরে ঢোকা এক যুবকের হাতে একই পরিবারের তিনজনের প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত বাবুল মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।