জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগ, নীরব কেন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা?
জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগ, নীরব কেন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা?
admin
প্রকাশিত ০৪ অক্টোবর, রবিবার, ২০২৬ ২২:৩০:৩৪
জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগ, নীরব কেন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা?
সিলেট নগরীর মেজরটিলায় অবস্থিত জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল।
দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালকে ঘিরে উঠছে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠে আসছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন হাসপাতালের অপথ্যালমিক প্যারামেডিক সজল দেব। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সহকারী পর্যায়ের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তিনি রোগী দেখা, চিকিৎসা দেওয়া, প্রেসক্রিপশন লেখা এবং চিকিৎসকের দায়িত্বসংশ্লিষ্ট কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছেন নিয়মিতই।
এমনকি চিকিৎসকের স্বাক্ষরের জায়গায় তার স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। তবে সজল দেব এসব বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি, সিলেট জেলা প্রশাসক (ডি.সি) ও সিভিল সার্জন এর দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যান।
এদিকে, হাসপাতালের রোগীদের বায়োমেট্রিক পরীক্ষার খরচ নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, আগে এ পরীক্ষার জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের রশিদের মাধ্যমে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়। এরপর বিনামূল্যের পরীক্ষার নামে রোগীর কাছ থেকে কৌশলে অর্থ আদায় হচ্ছে করে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করছেন অনেকেই , তাদের দাবি প্রতিষ্ঠানের টাকা বাই পকেটে নিয়ে যাওয়ার জন্যই এ পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। কোন না কোন ভাবে রোগীর কাছ থেকে এই পরীক্ষার টাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কিন্তু দেওয়া হচ্ছে না প্রতিষ্ঠানের জমা।
আরও অভিযোগ রয়েছে, সামর্থ্যবান অপারেশন রোগীদের কৌশলে সজল দেবের শাহপরান চক্ষু সেবা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয় । এবং দরিদ্র রোগীদের হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়ার নামে বিভিন্নভাবে অর্থ নেওয়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের সঙ্গে সজল দেবের পাশাপাশি পিংকু আব্দুর রহমানের নামও এসেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এত অভিযোগের পরও দৃশ্যমান তদন্ত ও ব্যবস্থা কোথায়?
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর আগে অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হলেও তার দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
এলাকাবাসী বলছেন এত পত্র-পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেল গুলোতে সংবাদ প্রকাশের পরেও টনক নড়ছে না অভিযুক্তদের আসলে তাদের পেছনে কোন অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে কিনা এনিও শংকিত স্থানীয়রা।
স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া—এটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।