সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মচারীদের আন্দোলন
সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মচারীদের আন্দোলন
admin
প্রকাশিত ০৩ অক্টোবর, শনিবার, ২০২৬ ২১:৫৯:৪৫
সিলেট নগরের তালতলায় পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মচারীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হামলা, মারধর ও হাতাহাতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার সকাল থেকে হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তারা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের কাজে ফেরার অনুরোধ করলেও তারা কর্মসূচি চালিয়ে যান।
দুপুরের দিকে সেখানে যান সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এ সময় আন্দোলনকারীদের কয়েকজন তাকে ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এরপর হাসপাতালের ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরে সেমিনার হলে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে কয়েকজন কর্মচারীকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজনকে পুলিশ আটক করে এবং হাতকড়া পরায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে ওই কর্মচারী ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর পা ধরে ক্ষমা চান বলে তারা জানান।
কর্মচারীদের অভিযোগ, ক্ষমা চাওয়ার পরও ওই কর্মচারীকে বহিরাগত কয়েকজন মারধর করেন। পরে লিফটের সামনে নিয়েও তাকে মারধর করা হয়। হামলাকারীরা বিএনপির নেতাকর্মী বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
এ নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে কর্মচারী ও বহিরাগতদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা শাখার কর্মচারী আহমদ আল জুবের বলেন, স্লোগান দেওয়ার কারণে তারা ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। এরপরও তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩০ জন কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আরেক কর্মচারী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পরও সেদিন বিএনপির লোকজনের হাতেই তিনি মারধরের শিকার হয়েছেন। স্লোগানের জন্য ক্ষমা চাওয়ার পরও তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা হাসপাতালে অবস্থান করেন ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপির নেতারা। বিকেলে তিনি হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় ফের স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
অভিযোগের বিষয়ে ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বহিরাগত কয়েকজন মারধর করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নন। তিনি বিষয়টি সমাধান করে এসেছেন এবং কর্মচারীরাও আন্দোলন স্থগিত করেছেন।
তিনি বলেন, আন্দোলন চলাকালে কর্মচারীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দিয়েছেন, তাকে উদ্দেশ্য করে নয়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মো. মঈনুল জাকির বলেন, কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।