ওসমানীনগরে ভূমি বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তা দাবি
ওসমানীনগরে ভূমি বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তা দাবি
admin
প্রকাশিত ০২ অক্টোবর, শুক্রবার, ২০২৬ ২২:৫৭:৪৩
ওসমানীনগরে ভূমি বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তা দাবি
ওসমানীনগর(সিলেট)প্রতিনিধি:: সিলেটের ওসমানীনগরে ভূমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে হামলা, ভাঙচুর, প্রাণনাশের হুমকি ও মানহানিকর অপপ্রচারের অভিযোগ করেছেন সাইদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের খুজগীপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন সাইদুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উমরপুর বাজার মসজিদে এশার নামাজ শেষে বের হলে একই গ্রামের মাজাহিদ আলী, আব্দুল শহিদ ও তাঁদের সহযোগীরা তাঁর ওপর হামলা চালান। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে তিনি নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রহমান রাইস মিলে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানে প্রবেশ করে ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় লোহার পাইপ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সাইদুর রহমান গুরুতর আহত হন। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর ভাতিজা হাসান মিয়া, চাচাতো ভাই আক্তার হোসেন এবং দোকানের তত্ত্বাবধায়ক জালাল মিয়াও আহত হন। হামলাকারীরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তিনি চার দিন চিকিৎসা নেন।
সাইদুর রহমানের দাবি, খুজগীপুর মৌজার জেল নং-০৯, খতিয়ান নং-৬৩৫ এবং বিভিন্ন দাগের ১৩০ শতক ভূমি তাঁর দাদা ইউনুছ আলী ১৯৭০ সালে তিনটি দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর বাবা ও চাচাদের নামে ভূমি রেজিস্ট্রি করা হয়। নামজারির মাধ্যমে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভূমিটি ভোগদখল করে আসছেন।
তবে ভূমি ক্রয়ের ছয় বছর পর চাঁন মিয়া ও আব্দুল জলিল জাল দলিলের মাধ্যমে ওই ভূমির মালিকানা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে তাঁর চাচা সোনাওর আলী ১৯৭৬ সালে বালাগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি পর্যালোচনা করে ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট সিলেট বিশেষ জেলা জজ আদালত সোনাওর আলীর পক্ষে রায় ঘোষণা করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, চলতি বছরের জুলাই মাসে বিরোধপূর্ণ ভূমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন সাইদুর রহমান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মাজাহিদ আলী, আব্দুল শহিদ ও তাঁদের সহযোগীরা সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে ভূমির কাগজপত্র নিয়ে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে থানায় গিয়ে নিজের মালিকানার কাগজপত্র প্রদর্শন করেন বলেও দাবি করেন সাইদুর রহমান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর ছবির সঙ্গে অন্য এক নারীর ছবি যুক্ত করে জাল কাবিননামা ও সাজানো অভিযোগপত্র তৈরি করে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে চিঠির মাধ্যমে পাঠিয়ে তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় গত মাসে সিলেটের প্যানেল কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া গত ২৩ সেপ্টেম্বরের হামলার ঘটনায় ২৭ সেপ্টেম্বর ওসমানীনগর থানায় তাঁর ভাই আমিনুর রহমান বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকে তাঁকে গুম ও হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ অবস্থায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাইদুর রহমানের ভাই আমিনুর রহমান, চাচাতো ভাই আক্তার হোসেন, স্থানীয় আঙ্গুর মিয়া, হাসান মিয়া, জাকির আহমদ ও জালাল মিয়া।