১লা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আম্বরখানার যানজট নিরসনে মেগা প্রকল্পের উদ্যোগ সিউকের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আদলে

admin
প্রকাশিত ০১ নভেম্বর, রবিবার, ২০২৬ ১৮:১৯:৩৪
আম্বরখানার যানজট নিরসনে মেগা প্রকল্পের উদ্যোগ সিউকের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আদলে

প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব, মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে যুক্ত হবেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা

সিলেট নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা আম্বরখানা। প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত, অসংখ্য যানবাহন চলাচল, ফুটপাত দখল এবং অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এলাকাটি এখন নগরবাসীর দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। দীর্ঘদিনের এই যানজট সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এবার সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মেগা প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। শুধু সাময়িক যানজট নিয়ন্ত্রণ নয়, আম্বরখানাকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও চলাচলবান্ধব এলাকায় রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি বাস্তবসম্মত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের পথে এগোচ্ছে সংস্থাটি।

এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে রোববার সকালে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে সুধীজন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আম্বরখানার যানজট নিরসনে সম্ভাব্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সিলেটকে একটি আধুনিক, আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিউক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আম্বরখানা পয়েন্ট সিলেটের যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। এই এলাকার যানজট নিরসনে একটি টেকসই ও আধুনিক প্রকল্প গ্রহণের জন্য স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ, ট্রাফিক বিভাগ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট মতামত এবং প্রস্তাবনার ভিত্তিতে একটি বাস্তবসম্মত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হবে। এ প্রকল্প সফল করতে ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় বিশেষভাবে আলোচনায় আসে যানজট নিরসনে চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মিত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আদলে সিলেট নগরে প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাবতা প্রসঙ্গ। সিউকের নির্বাহী পরিচালক (সিনিয়র সহকারী সচিব ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট) মো. সাদিউর রহিম জাদিদ তার বক্তব্যে বলেন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে এ ধরনের মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব কি না, তা বিবেচনা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রস্তাব দেন তিনি।

সভায় যানজট নিয়ন্ত্রণে বিকল্প কিছু প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত প্রস্তাবও উঠে এসেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডি এলজি) মাহমুদা সুলতানা রাজধানী ঢাকার মতো সিলেট নগরীর মার্কেটগুলোর সাপ্তাহিক ছুটির দিন সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। তার মতে, একদিন একটি মার্কেট বন্ধ এবং পরদিন অন্য একটি মার্কেট বন্ধ রাখার ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচলের সাথে সাথে নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) গৌতম দেব যানবাহন চলাচলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস ও রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এসব যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট চলাচল এলাকা ও নিয়মনীতি কার্যকর করা জরুরি। আর পরিকল্পিতভাবে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা গেলে নগরীর যানজট অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

সভায় জানানো হয়, এ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ট্রাফিক বিভাগ, ব্যবসায়ী সমিতি, পরিবহন সমিতি, মসজিদ কমিটি এবং এলাকার অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এই মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ জেরিনা হোসাইনকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। একই সাথে সরেজমিনে আম্বরখানা এলাকা পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতি, যানবাহনের চাপ, সড়কের ব্যবহার এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়ার কথাও সভায় জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৩-এর আলোকে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।