আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৬ মার্চ, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযানের ব্যয় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক-ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই আমেরিকার খরচ হয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন (৩৭০ কোটি) মার্কিন ডলার।
ব্যয়ের খতিয়ান: দিনে প্রায় ৮৯ কোটি ডলার
সিএসআইএস-এর বিশ্লেষণ বলছে, যুদ্ধের শুরু থেকে পেন্টাগন গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৮৯ কোটি ১৪ লাখ ডলার ব্যয় করছে। এই বিপুল ব্যয়ের প্রধান কারণগুলো হলো:
-
অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র: আকাশপথে ব্যাপক হামলার কারণে অত্যন্ত দামি ও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হচ্ছে।
-
অপারেশনাল কস্ট: মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা বিশাল নৌ ও বিমান বহরের রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি খরচ।
দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের শঙ্কা ও বাজেট সংকট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তবে সিএসআইএস সতর্ক করে জানিয়েছে:
“বর্তমান প্রতিরক্ষা বাজেটে এই যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। পেন্টাগনের জন্য অচিরেই অতিরিক্ত বিশাল অংকের তহবিলের প্রয়োজন হবে।”
অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই যুদ্ধের খরচ মেটাতে অভ্যন্তরীণ বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁট করতে হতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কঠিন হবে। প্রতিরক্ষা বিভাগকে (ডিওডি) যেকোনো সময় নতুন তহবিলের জন্য কংগ্রেসের দ্বারস্থ হতে হবে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধের ফলে মার্কিন অর্থনীতির ওপর চাপের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।