ইলিয়াস আলী এলাকার উন্নয়ন করে মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছিলেন
ইলিয়াস আলী এলাকার উন্নয়ন করে মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছিলেন
admin
প্রকাশিত ২৩ অক্টোবর, শুক্রবার, ২০২৬ ২২:৫২:৫৮
বিশ্বনাথে তাহসিনা রুশদীর এমপি: ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ৭টি সেতুর তালিকা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ
কবি এস.পি. সেবু, নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর। তিনি বলেছেন, এলাকার উন্নয়নই হবে তাঁর কাজের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জনগণের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সেগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে এলাকার অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি সড়ক ও ৭টি সেতুর তালিকা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর স্বামী, বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরের কৃতী সন্তান এম. ইলিয়াস আলী অতীতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন এবং মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করতে চান।
বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের আশুগঞ্জ বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর এসব কথা বলেন।
এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবাকে অগ্রাধিকার
মতবিনিময় সভায় তাহসিনা রুশদীর বলেন, “বিগত সময়ে আপনাদের এলাকার কৃতী সন্তান, আমার স্বামী এম. ইলিয়াস আলীকে আপনারা বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তিনিও এলাকার উন্নয়ন করে মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “গত নির্বাচনে আপনারা আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই দায়িত্বের মর্যাদা রক্ষা করতে চাই। নির্বাচনী এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি সড়ক ও ৭টি সেতুর তালিকা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।”
সংসদ সদস্য বলেন, “ইনশাআল্লাহ, আমার মেয়াদকালে আপনাদের দাবি-দাওয়া পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এলাকার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগিতা চাই। জনগণের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকতে চাই।”
তাঁর বক্তব্যে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
৫০টি সড়ক ও ৭টি সেতু ঘিরে উন্নয়নের প্রত্যাশা
বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ ও সংস্কার, যাতায়াতব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং যোগাযোগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদের কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও রোগীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে উন্নত সড়ক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সড়ক ও সেতুর উন্নয়ন হলে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগও সহজ হতে পারে।
সংসদ সদস্যের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি সড়ক ও ৭টি সেতুর তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন এসব প্রস্তাবের পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই, অনুমোদন ও অর্থায়নের অগ্রগতির ওপর উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের বিষয়টি নির্ভর করবে।
স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বরাদ্দের মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে তালিকাভুক্ত সড়ক ও সেতুগুলোর নির্দিষ্ট অবস্থান, নির্মাণব্যয়, বরাদ্দ এবং কাজ শুরুর সময়সূচি সম্পর্কে সভায় বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আশাবাদ
সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীরের বক্তব্যে নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি উঠে এসেছে। স্থানীয় জনগণের দাবি-দাওয়া চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন এবং সেগুলোর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, সড়ক ও সেতুর উন্নয়নের পাশাপাশি জনসাধারণের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যাগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের মতামত, প্রয়োজনের অগ্রাধিকার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যকারিতা বিবেচনায় নেওয়া হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব।
তবে এসব প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন নির্ভর করবে প্রকল্প অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ, বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর সমন্বয়ের ওপর। ফলে উন্নয়ন উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
রামপাশা ইউনিয়নবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা
মতবিনিময় সভায় তাহসিনা রুশদীর গত নির্বাচনে তাঁকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করার জন্য রামপাশা ইউনিয়নবাসীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনকে দায়িত্ব পালনের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে সবাইকে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সমস্যা চিহ্নিত করা, উন্নয়ন প্রস্তাব তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিকদের কার্যকর অংশগ্রহণ উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে।
বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য ও উপস্থিতি
রামপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিছুজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি পরিচালনা করেন যুবদল নেতা ইসলাম উদ্দিন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সভাপতি গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক মো.লিলু মিয়া চেয়ারম্যান, সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. গৌছ খান, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল হাই, সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ময়নুল হক, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক প্রভাষক মোনায়েম খান, বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামছুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. কাওছার খান, আসাদুজ্জামান আসাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তোফায়েল আহমদ, শিহাব উদ্দীন এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের ইউনিয়ন আহ্বায়ক রাজন খান প্রমুখ।
সভায় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
উন্নয়নের বাস্তবায়নই এখন স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা
বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরবাসীর কাছে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, সড়ক ও সেতুর নির্মাণ এবং দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসন গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা। সংসদ সদস্যের ঘোষিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা শুধু উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা বা তালিকা প্রণয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁরা এসব উদ্যোগের বাস্তব অগ্রগতি এবং সময়মতো বাস্তবায়নও দেখতে চান। কোন সড়ক ও সেতু অগ্রাধিকার পাবে, কখন অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া যাবে এবং কখন নির্মাণকাজ শুরু হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হলে উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে জনসাধারণের ধারণা আরও পরিষ্কার হবে।
এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর তাঁর বক্তব্যে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখবেন। উন্নয়নকাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং মানুষের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই এসব উদ্যোগের সাফল্য মূল্যায়িত হবে।