আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মাঝেই এবার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে তীব্র বাকযুদ্ধে জড়িয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ইরান ও ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক দাবির ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তেহরানের দাবি, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা কেবল অটুটই নয়, বরং তা এখন আগের চেয়েও শক্তিশালী।
নেতানিয়াহুর দাবি বনাম ইরানের প্রতিক্রিয়া
গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন, “আমরা জয়ী হচ্ছি এবং ইরান ক্রমে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”
নেতানিয়াহুর এই দাবির প্রতিবাদে শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত পত্রিকা ‘ইরান’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়িনি কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি ইরানের শিক্ষাব্যবস্থার সর্বোচ্চ নম্বর প্রদানের উদাহরণ টেনে বলেন:
“আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের সক্ষমতা এখন পূর্ণ পর্যায়ে (স্কোর ২০-এ ২০) রয়েছে। এ নিয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ নেই। যুদ্ধের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছি।”
সামরিক সক্ষমতা নিয়ে তেহরানের অবস্থান
জেনারেল নায়িনি স্পষ্ট করে জানান যে, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে তেহরানের কোনো সংকট নেই। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, শত্রুকে পুরোপুরি ক্লান্ত না করা পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না। তার মতে, ইরানের ওপর থেকে যুদ্ধের কালো মেঘ চিরতরে দূর না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধ এবং ইরান-ইসরায়েলের সরাসরি সংঘাতের আবহে এই পাল্টাপাল্টি হুংকার ওই অঞ্চলের উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
-
ইসরায়েলের কৌশল: ইরানের সক্ষমতা খর্ব করার দাবি তুলে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের আধিপত্য জাহির করা।
-
ইরানের কৌশল: নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে আঞ্চলিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের মনোবল ও সক্ষমতা প্রদর্শন করা।
দৃষ্টি আকর্ষণ: প্রতিবেদনের মূল তথ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইরানের ‘২০-এ ২০’ স্কোরিংয়ের বিষয়টি বিশেষভাবে হাইলাইট করা হয়েছে যা তাদের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।