মাহে রমজান ও জুমাতুল বিদা: গুরুত্ব, আমল এবং প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা
মাহে রমজান ও জুমাতুল বিদা: গুরুত্ব, আমল এবং প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা
admin
প্রকাশিত ১৯ মার্চ, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ১৪:৫৯:৪২
ধর্মচিন্তা ডেস্কবৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
পবিত্র মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার আমাদের সমাজে ‘জুমাতুল বিদা’ হিসেবে পরিচিত। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানের বিদায়ী ঘণ্টা যখন বাজতে শুরু করে, তখন এই শেষ জুমার দিনটি মুমিন হৃদয়ে এক ভিন্ন আবেগের জন্ম দেয়। রমজান এবং জুমার সম্মিলিত মহিমা এই দিনটিকে করেছে অনন্য।
জুমাতুল বিদার বিশেষ তাৎপর্য
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এই দিনটির গুরুত্ব মূলত দুটি প্রধান কারণে:
রমজানের অশেষ নেকি: রমজানে যেকোনো নেক আমলের সওয়াব ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দিনের মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন’ (জামে তিরমিজি)। এই দিনেই মানবজাতির আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল।
জুমার দিনের ৯টি জরুরি সুন্নত আমল
জুমাতুল বিদাসহ যেকোনো জুমার দিনে বিশেষ সওয়াব হাসিলের জন্য নিচের সুন্নতগুলো পালনে সচেষ্ট হওয়া উচিত: ১. সাবান দিয়ে ভালোভাবে গোসল করা। ২. সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম বা নতুন পোশাক পরা। ৩. পুরুষদের ক্ষেত্রে আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা। ৪. সম্ভব হলে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া। ৫. আজানের পরপরই বা দ্রুত মসজিদে প্রবেশ করা। ৬. ইমামের কাছাকাছি স্থানে বসা। ৭. মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা (খুতবা চলাকালীন কথা বলা নিষেধ)। ৮. রাসুল (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা। ৯. কাউকে কষ্ট না দেওয়া এবং অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা।
সতর্কতা: জুমাতুল বিদা নিয়ে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা
শরিয়তে জুমাতুল বিদা নামে বিশেষ কোনো নামাজের পরিভাষা নেই। তবে আমাদের সমাজে কিছু ভিত্তিহীন প্রথা বা বিদআত প্রচলিত রয়েছে, যা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক:
সালাতুল কাজায়ে উমরি: অনেকের ধারণা এই দিনে বিশেষ নামাজ পড়লে জীবনের সব কাজা নামাজ মাফ হয়ে যায়—এটি একটি ভিত্তিহীন ও মনগড়া বিশ্বাস। কাজা নামাজ আদায়ের নিয়ম হলো প্রতিটি নামাজ আলাদাভাবে পড়া।
বিশেষ কোনো নামাজ বা রাকাত সংখ্যা: জুমাতুল বিদার জন্য আলাদা কোনো নফল নামাজ বা নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা নেই। জুমার দুই রাকাত ফরজই মূল ইবাদত।
ভ্রান্ত বিশ্বাস: এই দিনে নামাজ পড়লে সারাবছর সুস্থ থাকা যায়—এমন বিশ্বাস করার কোনো ধর্মীয় ভিত্তি নেই।
আল-কুদস দিবস ও সমসাময়িক চেতনা
বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহ রমজানের শেষ শুক্রবারকে ‘আল-কুদস দিবস’ হিসেবে পালন করে। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের পবিত্র মসজিদ আল-আকসা মুক্তির দাবিতে বিশ্বজুড়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে ফিলিস্তিনের চলমান সংকটময় পরিস্থিতিতে এই দিনটির প্রাসঙ্গিকতা আরও বেড়ে গেছে।
উপসংহার: জুমাতুল বিদা মূলত রমজানকে বিদায় জানানোর একটি বিষাদময় মুহূর্ত। এটি আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ। এই দিনে আমাদের উচিত বেশি বেশি তওবা ও ইস্তেগফার করা এবং ফিলিস্তিনসহ সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর শান্তির জন্য দোয়া করা।