২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

উৎসবের আলো আর বঞ্চনার অন্ধকারেও যে হাত দুটো কাঁসর বাজায়-

admin
প্রকাশিত ১৯ অক্টোবর, সোমবার, ২০২৬ ১৪:০৩:২১
উৎসবের আলো আর বঞ্চনার অন্ধকারেও যে হাত দুটো কাঁসর বাজায়-

উৎসবের আলো আর বঞ্চনার অন্ধকারেও যে হাত দুটো কাঁসর বাজায়-

নিজস্ব প্রতিবেদক: কলকাতার এক বনেদি বাড়ির পুজো। চারদিকে আলোর রোশনাই, নতুন জামাকাপড়ের ঘ্রাণ, সুস্বাদু খাবারের আয়োজন আর হাসিমুখে ঘুরে বেড়ানো মানুষের ভিড়।

এই উৎসবের বর্ণিল উদযাপনের মাঝে হঠাৎই চোখ আটকে যায় ভিড়ের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছোট্ট শিশুর ওপর। নাম খোকা। সুন্দরবনের মাটি থেকে বাবার হাত ধরে সে এসেছে তিলোত্তমায়, পুজোয় একটু কাজের আশায়।

উৎসবের এই আনন্দের দিনেও খোকার গায়ে ওঠেনি কোনো নতুন জামা। পায়ে যে হাওয়াই চটিটা রয়েছে, তা বহু পুরনো এবং বেশ কয়েক জায়গায় সেলাই করা। দুপুরের চটজলদি খাওয়া বলতে জোটে কেবল সামান্য সবজি-ভাত।

এরপর ক্লান্ত শরীরটা এলিয়ে দিতে হয়েছিল ওই বাড়িরই বারান্দার এক কোণে, যেখানে মশার কামড় সহ্য করেই একটু ঘুমিয়ে নেওয়া। তবে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই সে আবার সজাগ। বাবার পাশে দাঁড়িয়ে কাঁসর বাজিয়ে তাল মেলাচ্ছে উলুধ্বনি আর ঢাকের বোলের সাথে।

এই দৃশ্য আমাদের সমাজের এক নির্মম ও কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়। একদিকে যখন জমজমাট উৎসব, শপিং ব্যাগ আর ভোগের প্রাচুর্য—তখন অন্যদিকে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সামিল একঝাঁক খোকা। উৎসবের বর্নিল আলোর রেশ তাদের জীবনে পৌঁছায় না ঠিকই, কিন্তু বেঁচে থাকার তাগিদে তারা ঠিকই সুর মেলায় জীবনের সঙ্গে।

এই প্রান্তিক মানুষগুলোর জীবনসংগ্রাম বরাবরই আমাদের নাড়া দেয়। আলোর উৎসবের এই ক্ষণে আমাদের প্রার্থনা একটাই—মা যেন ভালো রাখেন এই সমস্ত খোকাদের, তাদের জীবনেও ফিরিয়ে দেন একটু স্বস্তি ও হাসির আলো।