২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

এভিয়েশন বাজারে চীনের দাপট: বোয়িং-এয়ারবাসের একাধিপত্যে ভাগ বসাতে আসছে ‘কম্যাক’

admin
প্রকাশিত ০৪ ফেব্রুয়ারি, বুধবার, ২০২৬ ১৪:২২:৪০
এভিয়েশন বাজারে চীনের দাপট: বোয়িং-এয়ারবাসের একাধিপত্যে ভাগ বসাতে আসছে ‘কম্যাক’

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | সিঙ্গাপুর এয়ারশো

বিশ্ব এভিয়েশন শিল্পের দীর্ঘদিনের দুই রাজা—মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িং এবং ইউরোপীয় এয়ারবাস। তবে সিঙ্গাপুর এয়ারশোর এবারের আসরে দৃশ্যপট বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কম্যাক (COMAC)। প্রথমবারের মতো চীনের বাইরে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করে বিশ্ববাজারের নজর কেড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী এক দশকে আকাশপথের লড়াই হতে যাচ্ছে ত্রিমুখী।

সিঙ্গাপুরে আকর্ষণের কেন্দ্রে কম্যাক

সিঙ্গাপুর এয়ারশোতে বিভিন্ন দেশের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শিত হলেও সবার মনোযোগ কেড়েছে কম্যাক-এর বুথ। দুই বছর আগে নিজেদের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ সি৯১৯ (C919) উড়িয়ে সিঙ্গাপুরে এনে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল চীন। এবার তারা এসেছে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ও এয়ারবাস এ৩২০-নিও-এর যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে।

বোয়িং-এয়ারবাসের সংকট ও কম্যাক-এর সুযোগ

বর্তমানে সরবরাহ শৃঙ্খলে জটিলতা, ইঞ্জিনের ঘাটতি এবং নতুন উড়োজাহাজ হস্তান্তরে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ধুঁকছে বোয়িং ও এয়ারবাস। আইএটিএ (IATA)-এর তথ্যমতে, একটি নতুন উড়োজাহাজের অর্ডার দিয়ে ডেলিভারি পেতে এখন প্রায় সাত বছর সময় লাগছে।

ঠিক এই সংকটময় সময়েই বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে চীন। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ বলেন,

“আগামী ১০ থেকে ১৫ বছর পর আমরা বোয়িং ও এয়ারবাসের পাশাপাশি কম্যাক-এর নামও শুনব। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তারা ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হতে যাচ্ছে।”

এশীয় বাজারে বাড়তে থাকা প্রভাব

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বর্তমানে উড়োজাহাজের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সরবরাহের ঘাটতি এয়ারলাইনগুলোকে চাপে ফেলেছে। এএপিএ (AAPA)-এর মহাপরিচালক সুভাষ মেনন এই নবাগতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমাদের আরও সরবরাহকারী প্রয়োজন।”

Manual8 Ad Code

ইতিমধ্যেই চীনের অভ্যন্তরীণ রুটে ১৫০টির বেশি কম্যাক বিমান উড়ছে। এ ছাড়া লাওস, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম এবং ব্রুনাইয়ের মতো দেশগুলো বড় আকারের অর্ডার দিয়েছে। কম্বোডিয়াও প্রায় ২০টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে।

Manual4 Ad Code

চ্যালেঞ্জ যেখানে

তবে বৈশ্বিক বাজারে পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করতে কম্যাক-এর সামনে এখনো কিছু বড় বাধা রয়েছে:

  • সার্টিফিকেশন: ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকদের অনুমোদন পেতে ২০২৮ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

  • প্রযুক্তিগত সমন্বয়: পশ্চিমা যন্ত্রাংশ ও চীনা সফটওয়্যারের নিখুঁত সমন্বয় ঘটানো একটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।

    Manual2 Ad Code

  • অবকাঠামো: রক্ষণাবেক্ষণ ও পাইলট প্রশিক্ষণের জন্য বোয়িং বা এয়ারবাসের মতো শক্তিশালী বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক তৈরি করতে আরও সময়ের প্রয়োজন।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ফিলিপাইনের এয়ারলাইন সেবু প্যাসিফিকের প্রধান নির্বাহী মাইক সুকস মনে করেন, ২০৩০-এর দিকে কম্যাক একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে পুরোপুরি তৈরি হবে। একদিকে বোয়িংয়ের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং অন্যদিকে এয়ারবাসের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে চীনের এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি আগামীর এভিয়েশন বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।

Manual5 Ad Code