নিজস্ব প্রতিবেদক | বাগেরহাট
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ যখন দুয়ারে, ঠিক তখনই ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব হয়ে গেছেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ৮ জন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোররাতে উপজেলা সদরের বাজার ব্রিজের মঘিয়া অংশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ব্যবসায়ীদের অন্তত অর্ধকোটি টাকার সম্পদ ভস্মীভূত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে:
ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর প্রায় এক ঘণ্টার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে দোকানগুলোর সব মালামাল পুড়ে কয়লা হয়ে যায়। তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ীদের আহাজারি
ঈদের আগে নতুন মালামাল তুলেছিলেন ব্যবসায়ীরা, যার বড় অংশই ছিল ধারদেনা করা। চায়ের দোকানদার সোহাগ মাঝি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন:
“এনজিওর ঋণ আর আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করে দুটো ফ্রিজ কিনেছিলাম। ঈদ উপলক্ষে দোকানে অনেক মালামাল তুলেছিলাম। এখন ঋণের টাকা কীভাবে দেব আর কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব, তা আল্লাহ ভালো জানেন।”
ক্ষতিগ্রস্ত সারের ডিলার ‘মীম অ্যান্ড মুন’-এর মালিক মাসুদুর রহমান জানান, জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় প্রায় ২০ লাখ টাকার সার মজুত করেছিলেন তিনি, যার পুরোটাই এখন ধ্বংসস্তূপ।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক তৎপরতা
ঘটনার খবর পেয়ে সকালেই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন:
-
শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ (সংসদ সদস্য, বাগেরহাট-২)।
-
মো. আলী হাসান (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কচুয়া)।
-
স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ও বাজার কমিটির সদস্যগণ।
সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও টিন দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হাসান জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।
আমার মন্তব্য: ঈদের ঠিক আগে এমন ঘটনা সত্যিই হৃদয়বিদারক। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।