কোম্পানীগঞ্জে পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহত
কোম্পানীগঞ্জে পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহত
admin
প্রকাশিত ২৬ অক্টোবর, সোমবার, ২০২৬ ২০:১০:১১
কোম্পানীগঞ্জে পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহত
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আক্তার হোসেন (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর আলমও গুরুতর আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে উপজেলার দুপড়িরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দুপড়িরপাড় গ্রামে পুকুরের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আক্তার হোসেন (৩০) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত আক্তার হোসেন ওই গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর আলম গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে মাথায় আঘাত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশের নিজেদের একটি পুকুর থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে মেশিনের সাহায্যে পানি সেচ দিচ্ছিলেন আক্তার হোসেন ও তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় প্রতিবেশী আব্দুল হালিম সেখানে এসে তাঁদের মাছ ধরতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পরিবারের নারীরা এগিয়ে আসেন। তাঁরা আক্তার হোসেন ও তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর আলমকে বুঝিয়ে বাড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বাড়ি ফেরার পথে আব্দুল হালিমের ছেলে ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।
হামলায় আক্তার হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম গুরুতর আহত হন। তাঁদের চিৎকার শুনে স্বজনরা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। আকস্মিক এ মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আক্তার হোসেনের পেটে গুরুতর জখম হয়। আঘাতটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, পেটের ভেতর দিয়ে ঢুকে অস্ত্রের আঘাত পেছনের দিক দিয়ে বেরিয়ে যায় বলে তাঁরা দাবি করেন। এ ছাড়া তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর আলমের মাথায় আঘাত করা হয়েছে। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ অল্প সময়ের মধ্যেই সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে কারা সরাসরি অংশ নিয়েছেন, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। নিহতের পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি ঘটনার অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ উছমান গণি জানান, পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে সিলেট থেকে একজনকে আটক করেছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, কীভাবে হামলার সূত্রপাত এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, একটি পুকুরের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে এমন প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামান্য বিরোধ থেকে একজন মানুষের প্রাণহানি এবং আরেকজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে বিবেচ্য। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।