৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

গৃহযুদ্ধের তৃতীয় বছরে সুদান: সম্পদ–নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ে মানবিক বিপর্যয়

admin
প্রকাশিত ২০ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, ২০২৫ ২২:১৯:০৪
গৃহযুদ্ধের তৃতীয় বছরে সুদান: সম্পদ–নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ে মানবিক বিপর্যয়

Manual2 Ad Code

আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম দেশ সুদান—আয়তন ১৯ লাখ বর্গকিলোমিটার—তিন বছর ধরে বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত। দেশটির সেনাবাহিনী (এসএএফ) ও আধা সামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ)-এর ক্ষমতা দখলের সংঘাত বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি করেছে। সুদানের ১৮টি অঙ্গরাজ্যজুড়ে ৯৫ লাখের বেশি মানুষ গৃহহীন, এবং লাখ লাখ মানুষ অনাহারের মুখে।

প্রচুর তেল, সোনা ও উর্বর কৃষিজমির দেশ হলেও চলমান যুদ্ধ বিস্তীর্ণ সম্পদকে মানুষের নাগালের বাইরে ঠেলে দিয়েছে।


কে কোথায় নিয়ন্ত্রণ করছে

  • সেনাবাহিনী (এসএএফ)
    সুদানের উত্তরাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল, রাজধানী খার্তুম, নীল নদের তীরবর্তী শহরগুলো এবং লোহিত সাগরের বন্দর পোর্ট সুদান নিয়ন্ত্রণে আছে।

  • রাসেফ (আরএসএফ)
    পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর অঞ্চল শক্তভাবে দখলে। ২৬ অক্টোবর তারা উত্তর দারফুরের রাজধানী আল-ফাশের দখল নেয়। প্রায় ১৮ মাস অবরোধের পর এ শহর তাদের নিয়ন্ত্রণে যায়।


সুদানের প্রধান রপ্তানি পণ্য

২০২৩ সালে সুদানের মোট রপ্তানি আয় ছিল ৫.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে—

  • অপরিশোধিত তেল: ১.১৩ বিলিয়ন ডলার

  • সোনা: ১.৩ বিলিয়ন ডলার

  • প্রাণিজ পণ্য: ৯০২ মিলিয়ন ডলার

  • তেলবীজ: ৭০৯ মিলিয়ন ডলার (এর মধ্যে তিলের রপ্তানি ৬১৩ মিলিয়ন ডলার)

  • গাম অ্যারাবিক: ১৪১ মিলিয়ন ডলার

সুদান বিশ্বের সবচেয়ে বড় তিল রপ্তানিকারক এবং সবচেয়ে বড় গাম অ্যারাবিক সরবরাহকারী।


কৃষিজমি ও পশুসম্পদ কার নিয়ন্ত্রণে

  • দেশের ৫১.৪% ভূমি চরাঞ্চল, যেখানে গবাদিপশুসম্পদের প্রধান কেন্দ্র।

  • বর্তমানে এই অঞ্চল সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে প্রায় সমান ভাগে বিভক্ত।

  • উত্তরের চরাঞ্চলে রয়েছে বিখ্যাত গাম অ্যারাবিক বেল্ট—গাম সংগ্রহের মূল এলাকা।

  • সবচেয়ে উর্বর চাষযোগ্য অঞ্চল গেজিরা, ব্লু নাইল ও হোয়াইট নাইলের মধ্যবর্তী এলাকা—এই অঞ্চল সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।


সুদানের তেল: কার কাছে কত

  • সুদানের প্রধান আয়ের উৎস অপরিশোধিত তেল।

  • ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতার পর দেশের ৭৫% তেলক্ষেত্র দক্ষিণে চলে যায়, ফলে উৎপাদন ধসে পড়ে।

  • ২০২৩ সালে দৈনিক উৎপাদন নেমে আসে ৭০ হাজার ব্যারেলে

  • ২০২4 সালে সুদানের রিজার্ভ—

    Manual4 Ad Code

    • তেল: ১.২৫ বিলিয়ন ব্যারেল

    • গ্যাস: ৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (তবে গ্যাস ব্যবহার/উৎপাদন হয় না)

নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি

  • দক্ষিণাঞ্চলের বেশির ভাগ তেলক্ষেত্র বর্তমানে আরএসএফের দখলে

  • প্রধান তেল শোধনাগার খার্তুম (ক্ষমতা—১ লাখ ব্যারেল/দৈনিক) সেনাবাহিনীর হাতে।

  • পোর্ট সুদান শোধনাগারও সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন।

  • দক্ষিণ থেকে পোর্ট সুদানের বাশায়ের টার্মিনাল পর্যন্ত তেল পাইপলাইনের বড় অংশ সেনাবাহিনীর দখলে।


সোনার খনি কার হাতে

সুদান আফ্রিকার শীর্ষ সোনা উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি।

  • পূর্ব সুদানের বেশিরভাগ খনি সেনাবাহিনীর দখলে

  • কেন্দ্র ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলীয় খনিগুলোর বেশিরভাগ আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে

    Manual7 Ad Code

২০২৪ সালে বৈধভাবে উৎপাদন হয় ৬৪ টন সোনা, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৫৩% বেশি। বৈধ রপ্তানি থেকে আয় আসে ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার
তবে সোনার বড় অংশই কালো বাজারে বিক্রি হয়।
২০২৩ সালে সুদানের ৯৯% সোনা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।


সুদানের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার

সুদানের ৮০% রপ্তানি এশিয়ায়।

Manual1 Ad Code

২০২৩ সালের প্রধান বাণিজ্য অংশীদাররা—

  • সংযুক্ত আরব আমিরাত — ১.৯ বিলিয়ন ডলার (২১%, প্রধানত সোনা)

  • চীন — ৮৮২ মিলিয়ন ডলার (১৭%, কৃষিজ পণ্য)

  • সৌদি আরব — ৮০২ মিলিয়ন ডলার (১৬%, গবাদিপশু)

    Manual6 Ad Code

  • মালয়েশিয়া — ৪৭০ মিলিয়ন ডলার (৯%, তেল)

  • মিশর — ৩৮৭ মিলিয়ন ডলার (৭.৬%)

এই পাঁচ দেশেই সুদানের মোট রপ্তানির দুই–তৃতীয়াংশ যায়।